News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফাইল ছবি

সদ্য সমাপ্ত গণভোটের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হতে পারে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও সংবিধানে গণভোট আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ নেই। ফলে পুরো গণভোট প্রক্রিয়াটি সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছে এবং এ কারণে ঘোষিত ফল বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়া রিটে উল্লেখ করা হয়, গণভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কারণে ফলাফল যথাযথ ও বৈধ নয় বলে দাবি করেন রিটকারী। হাইকোর্ট যেন গণভোটের ফলাফল বাতিল করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন এবং নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন এমন নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আইনজীবী তৌহিদ বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থে এই রিট দায়ের করা হয়েছে। জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: রমজানে স্কুল বন্ধের হাইকোর্ট আদেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ

তার ভাষ্য, গণভোট প্রক্রিয়া অনিয়মমুক্ত না হলে তার ফলাফলও বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এ ভোটে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন এবং ভোট প্রদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি, আর বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এছাড়া বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট। ফলে পরিবর্তনের পক্ষে ভোটপ্রাপ্ত সংখ্যাই গণভোটে জয়ী হয়েছে এবং জনগণের বিপুল সমর্থন মিলেছে বলে জানানো হয়।

১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। 

বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৬(৩) ধারা অনুযায়ী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং গেজেট জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

রিটের মাধ্যমে আবেদনকারী পক্ষ গণভোটের প্রক্রিয়া ও ফলাফলের বৈধতা আদালতের নজরে আনতে চেয়েছেন। এখন নির্ধারিত শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়