News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২০ জুলাই ২০২৫

ইরানে ৫.৬ ও তাজিকিস্তানে ৪.০ মাত্রার ভূকম্পন

ইরানে ৫.৬ ও তাজিকিস্তানে ৪.০ মাত্রার ভূকম্পন

ফাইল ছবি

একই দিনে দুটি ভিন্ন মাত্রা ও গভীরতার ভূমিকম্প মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার ভিন্ন প্রান্তে কাঁপন তোলে—একটি ইরানে, অপরটি তাজিকিস্তানে। উৎপত্তিস্থলের গভীরতার পার্থক্য এ দুটি ভূমিকম্পের প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে ভিন্ন করে তোলে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক প্লেট টেকটনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানিয়েছে, রবিবার (২০ জুলাই) সকালে ইরানের উত্তরাঞ্চলে ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে, যা স্বল্প গভীরতার কারণে স্থলভাগে কম্পনের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি করে তোলে।

স্থানীয় গণমাধ্যম তেহরান টাইমস এবং ইরানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, মাজানদারান প্রদেশের পাহাড়ি ও গ্রামীণ অঞ্চলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দুর্গত এলাকায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে।

একই দিন তাজিকিস্তানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তবে এর মাত্রা ছিল ৪.০ এবং উৎপত্তি অনেক গভীরে—১৬০ কিলোমিটার নিচে। দেশটির জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানায়, গভীরতার কারণে ভূমিকম্পটি ভূমিতে তেমন শক্তিশালীভাবে অনুভূত হয়নি।

রাজধানী দুশানবের আশপাশে হালকা কম্পনের খবর মিললেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুশানবে টাইমস জানিয়েছে। নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় ১১৬ জন নিহত, অনাহারে নবজাতকের মৃত্যু

এই ভূমিকম্পের দুদিন আগেই, ১৮ জুলাই, তাজিকিস্তানে আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্রা ছিল ৩.৮, তবে উৎপত্তি ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের স্বল্প গভীরতার ভূমিকম্পের পর আফটারশক বা পরাঘাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

স্থানীয় প্রশাসন হিমবাহ ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি নিরীক্ষণ করছে, কারণ এই ধরনের ভূকম্পনের পর এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘন ঘটে থাকে।

উভয় দেশই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হলেও প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপট ও দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। ইরান “আলপাইন-হিমালয়ান ফল্ট লাইন”-এর ওপর অবস্থিত এবং প্রায়শই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার হয়। 

অন্যদিকে, তাজিকিস্তান একটি হিমবাহনির্ভর, পর্বতময় দেশ যেখানে তুষারধস, ভূমিধস এবং নদীভাঙন একাধিক দুর্যোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাজিকিস্তান দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।

দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পরবর্তী কম্পনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক স্বল্প ও গভীর ভূমিকম্প একই সময়ে বা ধারাবাহিকভাবে হলে এটি আঞ্চলিক টেকটনিক চাপে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে, যার প্রভাব নিকটবর্তী দেশগুলোতেও পড়তে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়