রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি সাংবাদিকনেতা শওকত মাহমুদ!
শওকত মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতা হিসাবেও সুপরিচিত ছিলেন বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, ইকোনোমিক টাইমসের সম্পাদক শওকত মাহমুদ। একসময়ের ডাকসাটে এই সাংবাদিক নেতা বর্তমানে কারাগারে আছেন।
বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে মনোনিত হন এবং ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনিত হন শওকত মাহমুদ।
এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার নিজ জেলা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
শওকত মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তারপর পরই সাংবাদিকতায় যোগ দেন তিনি।
২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এই সাংবাদিক নেতা। ২০১৮ সালে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় ২০১৯ সালের পর থেকে বিএনপির সাথে তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
এরপরই বিএনপি ভাঙ্গাগড়ার কার্যক্রমে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে আঁতাত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর জেরে দু’দফা শোকজের পর ২০২৩ সালে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়।
এর আগে, ২০২৫ এর ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। পুলিশ গাড়ি থামিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ওই এলাকায় অবস্থানের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: বিএনপির তিন নেতাকে সব দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার
এরপর এনায়েত করিমকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। সেই মামলার সূত্র ধরেই শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাংবাদিক শওকত মাহমুদ দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিএনপির সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
গত এপ্রিলে জনতা পার্টি বাংলাদেশ নামের একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন আর মহাসচিব শওকত মাহমুদ।
২০২৫ এর ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারেই আছেন তিনি। তবে সব শেষ গত ৩০ মার্চ আদালতে হাজিরার সময় দেখা যায় তাকে। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ বেশি কথা বলা যাবে না। বেশি কথা বললে জামিন আটকিয়ে দেবে।”
বর্তমানে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে সাংবাদিক শওকত মাহমুদের গ্রেফতার নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। তার এই পরিণতি স্বাভাবিকভাবেই বহুমাত্রিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে-যেখানে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা-সবই একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর পট পরিবর্তনের সময় নতুন দল তৈরি করাসহ নানা কারণে তিনি রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। কারাজীবন শেষে রাজনীতির মাঠে পুনরায় তার ফিরে আসার সম্ভাবনাকেও ক্ষীণ বলে ভাবছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একজন সাংবাদিক এবং সংগঠক হিসেবে শওকত মাহমুদের দায়িত্ব ছিল তথ্য পরিবেশনে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতার সাথে নেতৃত্ব দেয়া। একই সঙ্গে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সামাজিক ও আইনি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি ছিল। যখন এই দুই পরিচয় একত্রিত হয়, তখন দায়িত্বও দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু তিনি অজানা কারণে সেই দায়িত্বের কথা হয়তো ভুলে যান। যার ফলে এই পরিণতি।
তাদের মতে, শওকত মাহমুদের পরিণতি থেকে একটি বড় শিক্ষা হলো- এই পরিণতি শুধুমাত্র একজন লোভী ব্যক্তির নয়, বরং একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন। শওকত মাহমুদের এই ঘটনাও মনে করে দেয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য। এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেই আমরা একটি আরো ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








