নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২২, ২৮ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৫

গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে গোপালগঞ্জে। জেলার সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী এবং মোটরসাইকেল আরোহীসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালের দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বেদগ্রাম (মতান্তরে বেতগ্রাম) এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকালে বেদগ্রাম এলাকায় ‘দোলা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। ধাক্কাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে চলে যায় এবং বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু

উদ্ধারকারী দল ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার তীব্রতার কারণে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২০ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে বহু যানবাহন, যার মধ্যে ঈদের দিনে ঘরমুখী ও ঘুরতে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং কোনো পক্ষের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঈদের সকালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়