নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৪, ২৮ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে রাখা ‘এমটি মেঘনা ট্রেডার’ (কোনো কোনো সূত্রে মেঘনা ট্রেডার্স) নামের একটি বড় তেলবাহী জাহাজে আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত এই জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। 

তেলবাহী জাহাজ হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই সমুদ্রের বুকে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট একযোগে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই গভীর সমুদ্রে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট। 

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সমুদ্রের বুকে এই ভয়াবহ আগুন নেভাতে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক দুটি জাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’ ও ‘বিসিজিটি প্রমত্ত’ সরাসরি অংশ নিয়েছে। এর পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘বিসিজি বেইস চট্টগ্রাম’, ‘বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা’ এবং একাধিক হাইস্পিড বোটসহ দুটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ফায়ার ফাইটিং টিমকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

আরও পড়ুন: নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু

সমুদ্রে আগুনের তীব্রতা ও তেলবাহী জাহাজের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল। বর্তমানে নৌবাহিনীর একাধিক ফায়ার ফাইটিং জাহাজ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোস্ট গার্ডের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

টানা কয়েক ঘণ্টার তীব্র চেষ্টার পর আগুন এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা চারদিক থেকে পানি ও ফোম নিক্ষেপ করে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করার চেষ্টা করছেন। 

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, উত্তপ্ত ও সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তেলবাহী জাহাজ হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর এ কারণেই আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করার পাশাপাশি জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কন্ট্রোল রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সদস্যরা সমুদ্রের বুকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জাহাজটিতে ঠিক কী কারণে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে করে কী পরিমাণ জ্বালানি তেল বা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি কোস্ট গার্ড বা বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়