নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২৪ মে ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি ও তুমব্রু নো-ম্যান্সল্যান্ড সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ফাত্রাঝিরি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

নিহতরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা এবং তারা সীমান্তে একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ যৌথভাবে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালুক্যা/ভালুকিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

নিহতরা হলেন অক্যমং তংচঙ্গ্যা (৪০), চিক্যং তংচঙ্গ্যা (৩৪) ও শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা (৩২)। বিভিন্ন সূত্রে তাদের পিতার নাম ও পারিবারিক পরিচয় সামান্য ভিন্নভাবে পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থল ও নিহতের সংখ্যা সব রিপোর্টেই এক ও অভিন্ন। তারা তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই তিন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। প্রথমে একজন ব্যক্তি স্থলমাইন বিস্ফোরণের শিকার হন। তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে বাকি দুজনও পৃথক দুটি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। 
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যসংলগ্ন সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বা অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকই এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫

বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে জানান, ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের একটি টিম এবং বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা ওইদিন সকালে সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। 

তবে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার অংশের চোরাই পথ ব্যবহার বা অবৈধ পণ্য আনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করছে। এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।

ঘটনার পর বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে, একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়