নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ২১ মে ২০২৬

ঝিনাইদহে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঝিনাইদহে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

ফাইল ছবি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সাফদারপুর এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে খুলনার সঙ্গে রাজশাহীসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের সব ধরনের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনার পর থেকে ওই রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।

স্থানীয় রেলওয়ে সূত্র এবং কোটচাঁদপুর স্টেশন মাস্টার রিপন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনার মোংলা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদীগামী একটি পণ্যবাহী ও মালবাহী ট্রেন গভীর রাতে সাফদারপুর স্টেশন এলাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। এ সময় হঠাৎ করেই ট্রেনটির পেছনের একটি বগি বিকট শব্দে রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। 

আরও পড়ুন: বগুড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওই অংশে রেললাইন কিছুটা দেবে বা বসে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পরপরই সংকেত ব্যবস্থার কারণে এই রুটের আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থগিত করে দেওয়া হয়। গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুতই বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই খুলনা থেকে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী হাইড্রোলিক ক্রেন ও রিলিফ ট্রেন বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল থেকেই উদ্ধারকারী প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। স্টেশন মাস্টার রিপন আলী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি লাইন থেকে সরিয়ে ট্র্যাক সচল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক রেলওয়ে নিরাপত্তা মানদণ্ড ও বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, এই ধরনের লাইনচ্যুতির ঘটনা দেশের সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মোংলা বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে এবং বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলোর যাত্রীদের সাময়িক বিকল্প উপায়ে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় স্টেশন কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়