ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৩০
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ-৪ আসনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী ভয়াবহ সহিংসতা, হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটে।
এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রায় ২৮ জন সমর্থক এবং ধানের শীষ প্রতীকের অন্তত ২ জন সমর্থকসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহর ও উপজেলার নানা স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হন। ফল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ধানের শীষের রাশেদ খানের সমর্থকেরা গভীর রাত থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে।
শুক্রবার সকাল থেকে কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ শহরে একাধিক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।
বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের থানা রোড এবং নীমতলা বাসস্ট্যান্ডের বাজার রোড এলাকায় অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তিন বিএনপি নেতা খোকন, ইভন ও জবেদ আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহত জবেদ আলী কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক; তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় জামায়াত কর্মীদের ধাক্কায় বিএনপি নেতার মৃত্যু
একই সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটেশ্বর গ্রামে ধানের শীষের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কাপ-পিরিচ সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন আহত হন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত সবাইকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামেও কাপ-পিরিচ সমর্থক কাওসার বিশ্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোশারেফ শেখ দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক এবং ধানের শীষের কর্মীরা অন্যায়ভাবে তাকে আহত করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








