News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:০২, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত অন্তত ৫০

শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত অন্তত ৫০

ছবি: সংগৃহীত

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘাত, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি এবং ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সংগঠনের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের অধীনে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দুই ভাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার বিকেল গড়াতেই কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধা পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন সেখানে থেকে যমুনার সামনে যেতে চাইলে পুলিশ প্রথমে বাধা দেয়। পরে অনুমতি দেওয়া হলেও পথে তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তারা ফিরে আসেন।

এ ঘটনার পর ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়ে, পরে টিয়ারগ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। জবাবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষে সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকে আহত হন।

বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পোস্টে জানায়, সংগঠনের নেত্রী জুমা ও শান্তাও পুলিশি হামলায় আহত হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংগঠনের আরেক পোস্টে দাবি করা হয়, সংঘর্ষে সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে বলা হয়, “জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে আবার রাজপথে আসব।”

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, আহতদের মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ রোগী পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন: পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ, তীব্র যানজট

তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফেটে যাওয়া ও থেঁতলে যাওয়ার মতো জখম রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন, আর ভর্তি দেওয়ার মতো রোগী পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছেন। অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জাবের এবং ডাকসুর সাবেক জিএসসহ অন্তত ২৩ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

সংঘর্ষের পর নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর ও পরীবাগের দিকে ছড়িয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে এসব এলাকায় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে তারা শাহবাগে এসে আবার জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা-৮ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ হাজারখানেক বিক্ষোভকারী অংশ নেন।

বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে ওই এলাকা ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বারডেম হাসপাতালের পাশ দিয়ে মৎস্য ভবনের দিকে একটি সড়ক খোলা ছিল।

সন্ধ্যার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।

রাত ৮টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে শাহবাগ এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের অভিযোগ, জুমার নামাজের পর শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ে, এতে আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন এবং ডাকসুর সাবেক জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে সেনা ও র‍্যাব সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়