আয়েশার চুরি ধরা পড়ায় প্রাণ গেল লায়লা-নাফিসার
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার গৃহকর্মী আয়েশা চুরির চেষ্টা এবং পূর্বের ক্ষোভের জেরেই এই জোড়া খুন ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম মিন্টো রোডে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ ছিল টাকা চুরি নিয়ে লায়লা আফরোজের সঙ্গে গৃহকর্মী আয়েশার কথাকাটি ও ক্ষোভ। চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই আয়েশা মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয়। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও ৮ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি চুরির ঘটনায় আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। হত্যার ঠিক আগের দিনও আয়েশা ওই বাসা থেকে ২ হাজার টাকা চুরি করে। এই চুরি ধরা পড়ায় লায়লা আফরোজ তাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। এই হুমকি গৃহকর্মী আয়েশার মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা স্বীকার করে, এই ক্ষোভের জেরেই পরদিন ছুরি নিয়ে বাসায় ঢোকে সে। যদিও আয়েশার স্বামী রাব্বী পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্বর্ণের গয়না ও কিছু মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় লায়লা পেছন থেকে তাকে ধরে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে আয়েশা।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেফতার
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষোভের জেরে প্রথমে লায়লা আফরোজকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে আয়েশা। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে লায়লাকে হত্যা করে। মায়ের চিৎকার শুনে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ ঘুম থেকে উঠে ড্রয়িংরুমে ছুটে আসে এবং মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ফেলে। তখন গৃহকর্মী আয়েশা নাফিসাকেও ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। ছুরিকাঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা-মেয়ে মারা যান বলে প্রতিয়মান।
সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং মেয়ে নাফিসার শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। হত্যার পর আয়েশা বাসা থেকে কিছু মালামাল চুরি করে এবং স্কুলের ড্রেস পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলার বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও আয়েশা কাজে আসা-যাওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখত এবং তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তার গলায় থাকা একটি পোড়া চিহ্নকে ক্লু হিসেবে ব্যবহার করে।
নজরুল ইসলাম বলেন, তার সাইডে পোড়া দাগ ছিল ক্লু। কারণ এই পোড়া দাগ নিয়ে এই মহিলা মোহাম্মদপুর থানায় একটা জিডি থাকার কারণে ধরা পড়েছিল। সেই ক্লু ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পুলিশ নলছিটি এলাকায় আয়েশার দাদা শ্বশুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং হত্যাকাণ্ডের পর পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে তার স্বামী রাব্বীকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি বাসায় গৃহকর্মী রাখার পূর্বে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে রাখার জন্য বাড়ির মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








