ফুকেট উপকূলে জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর থেকে কনটেইনার ভর্তি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রাপথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’ (এমভি সিলয়েড এআরসি) নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর জাহাজে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে থাই নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ফুকেটের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন এবং স্থানীয় একটি হোটেলে রাখা হয়েছে।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মেরিন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন জানান, বিকেলে জাহাজটির ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৬ নাবিকসহ সবাই ভালো আছেন। কেন জাহাজটি ডুবে গেল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; ধারণা করা হচ্ছে ভারসাম্যহীন হয়ে জাহাজটি কাত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশি এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি পোর্ট কেলাং থেকে রওনা দিয়েছিল এবং ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আন্দামান সাগরে ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে আংশিকভাবে ডুবে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন এবং সাহায্যের আহ্বান জানান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থাই নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি মাছ ধরার নৌযানও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। পরে নাবিকদের স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যে তাদের দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ধর্মঘট স্থগিত
জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৫ মিটার। এতে প্রায় ২২৯ টিইইউএসএস (বিশ ফুট কনটেইনার সমতুল্য) থেকে শুরু করে দুই শতাধিক এবং বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মোট ২৯৭ একক কনটেইনার পণ্য ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৪টি কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার সময় কিছু কনটেইনার সাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল পরিমাণ তেল পানিতে মিশে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ জাহাজডুবিতে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। থাই কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তেলের ব্যবহার, কনটেইনারের ভারসাম্যের তারতম্য, আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ সম্ভাব্য নানা কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যৌথভাবে জরিপ চালাচ্ছে থাই নৌবাহিনী, ফুকেট দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক পুলিশ, কুসলধাম ফুকেট ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ অফিস-১০। পাশাপাশি জাহাজটির কনটেইনার উদ্ধার এবং পানিতে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণের কাজও শুরু হয়েছে।
আলভি লাইন্স বাংলাদেশের অপারেশনাল ম্যানেজার বোরহান উদ্দিন বলেন, জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসছিল। ফুকেট উপকূলে এটি কাত হয়ে ডুবে যায়। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেনও জানিয়েছেন, নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং তারা সবাই সুস্থ আছেন।
এদিকে থাইল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফুকেট নিউজ’ জানিয়েছে, রওনা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই জাহাজটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে জাহাজটি কেন ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে গেল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








