জিডিপি ৬ শতাংশের বেশি হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, তিনমাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোন কারখানা বন্ধ হয়নি। এছাড়া উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকায় দেশের সামষ্টিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হবে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব(রপ্তানি) মো. শওকত আলী ওয়ারেছী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েই চলছে। বিগত তিনমাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোন কারখানা বন্ধ হয়নি। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের বেশি থাকবে।”
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপে ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে বলে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী বলেও বার্নিকাট বলেছেন। এ ক্ষেত্রে চলমান সমস্যা সমাধানে উভয় দেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার হয়েছে। যারা অপপ্রচার চালিয়েছেন, তারা কেউ কোন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। যে কোন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা পরিদর্শন করলেই এর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।”
এর আগে রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। মূলত আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির গতিধারা নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রীরা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে এসব জানান।
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন “বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট” রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে গত তিন মাসের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। যা জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ। আর ২০১৫ সালের শুরুতে যদি এ রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকত, তাহলে চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
অন্যদিকে গত ৫ এপ্রিল মহাখালি ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘কেমন হবে নতুন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট শীর্ষক’ অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, “৫ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৮১ দিনের টানা অবরোধ ও ৬৭টি দিনের হরতালে দেশের অর্থনীতির মোট ক্ষতি হয়েছে ৪ হাজার নয়শ কোটি টাকা, যা ২০১৪-১৪ অর্থবছরের মোট জিডিপির প্রবৃদ্ধির শুন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর ফলে জিডিপির কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পৌছানো সম্ভব হবেনা, যা ৬ শতাংশের আশেপাশে থাকবে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








