আজ পবিত্র হজ
আরাফাতের ময়দান। ছবি সংগৃহীত
আজ ৯ জিলহজ, পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার দিন। সৌদি আরবে মঙ্গলবার (২৬ মে) ফজরের নামাজের পর মিনার তাঁবুনগরী থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হজযাত্রী।
এর আগে সোমবার (২৫ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রম শুরু হয়। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের মিনায় অবস্থান নেন হাজিরা।
আরাফাতের ময়দানে পৌঁছে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে- “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।”
এর বাংলা অর্থ- ‘আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাজির, হে আল্লাহ। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।’
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো পবিত্র হজ। আর হজের অন্যতম ফরজ হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। এটিকেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে ধরা হয়।
আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে জোহরের সময় হজের খুতবা দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সারাদিন ইবাদত, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় কাটাবেন তারা।
সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই হাজিরা রওনা দেবেন মুজদালিফা–র উদ্দেশে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে ধারাবাহিকভাবে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং পরে কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন হাজিরা।
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন তিনি শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের হজে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নিয়েছেন ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী।
আরও পড়ুন: হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা এবং হজ মিশনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সৌদিতে সোমবার গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার ৪০টির বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা হজ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








