News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট নেবেন না বিএনপির এমপিরা

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট নেবেন না বিএনপির এমপিরা

ছবি: সংগৃহীত

এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদীয় দলের সভায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জনগণের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারিভাবে কোনো শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) গাড়ি কিংবা প্লট গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বৈঠকের শুরুতে বিএনপি সংসদীয় দল সর্বসম্মতভাবে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মুহূর্তটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্র ধ্বংস, সংসদকে অকার্যকর করা এবং সাধারণ জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করার পর, জনগণের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ পেয়েছি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে আমরা আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি। তার নেতৃত্বে আমরা আশাবাদী, দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বাধা নয়: মির্জা ফখরুল

এ সিদ্ধান্ত সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে নেওয়া হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারি বরাদ্দের প্লটও নেবেন না।

এদিন সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনের শপথকক্ষে শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদের নেতা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এ্যোদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং এক আসনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

বৃহৎ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই বৈঠক বিএনপির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দল তার নীতি ও জনসেবার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নিশ্চিত করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়