‘আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও অর্থনীতি’
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আগামী সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। দিস আর দ্যা চ্যালেঞ্জ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণায় বিএনপি ২০৯ আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কারণে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্বে বিএনপি আগামী সরকার গঠন করবে। মহাসচিব নিজেও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকা পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, পরে তিনি গুলশানে দলের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে গিয়ে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে হারাতে চেয়েছিল বিএনপি’
নির্বাচনের মূল্যায়ন করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন একই সঙ্গে আনন্দময় ও বিষাদময়। আনন্দময়, কারণ দীর্ঘ সময় পরে একটি চমৎকার, উৎসবমুখর এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে, যা ব্যক্তিগতভাবে তিনি মুগ্ধতার সঙ্গে অভিভূত হয়েছেন। বিষাদময়, কারণ দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখার সুযোগ পাননি।
তিনি যোগ করেন, নির্বাচনের এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত রাখা যায়, তবে দেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত উঠে আসবে।
নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির বিশাল বিজয়কে জনগণের গণভিত্তির সঙ্গে যুক্ত রাখার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই কেবল ক্যাডারভিত্তিক দল নয়, বরং গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল। জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টো, ভিশন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, এ কারণে আজকের ভূমিধস বিজয়।
তিনি আরও যোগ করেন, বিজয় এই বার্তা দেয় যে বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে থেকেছে এবং জনগণের রাজনীতি করেছে। এটি দলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।
জামায়াতে ইসলামী দলের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালীন দমন-পীড়ন ও বিরোধী দলকে কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ফলে জনগণ উগ্রবাদী শক্তির দিকে ঝুঁকেছে।
তিনি বলেন, আজকের জামায়াতের উত্থান আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফল। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, আর বিএনপি টু-থার্ড মেজোরিটি অর্জন করেছে। আমি আত্মবিশ্বাসী, বাংলাদেশের জনগণ আবার সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলের মূল লক্ষ্য থাকবে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, দুর্নীতি প্রতিহত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, যা আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








