News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৮:৪৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোটের মাঠে হারলেও ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আমিনুল

ভোটের মাঠে হারলেও ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আমিনুল

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও হতাশার নাম হয়ে এসেছে ঢাকা-১৬ আসনের ফলাফল। গ্যালারি কাঁপানো জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক সফল অধিনায়ক আমিনুল হক মাঠের লড়াইয়ে পরাজিত হলেও, রাজনীতির টেবিলে তাকে ঘিরেই এখন নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারলেও ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় তাকে দেশের পরবর্তী ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল বাতেন (দাঁড়িপাল্লা) ৮৮,৮২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমিনুল হক (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৫,৪৬৭ ভোট। মাত্র ৩,৩৬১ ভোটের ব্যবধানে এই পরাজয়কে আমিনুলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ক্রীড়া সংগঠকরা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। নির্বাচনে এই আসনে পোলিং হার ছিল ৪৬ শতাংশ। মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ সেলিম উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেননি।

আমিনুলের এই অপ্রত্যাশিত পরাজয় নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক এবং আমিনুলের রুমমেট বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেন, আমিনুলের হার মেনে নেওয়া কঠিন। দলের প্রতি তার নিবেদন, মিরপুরের জনগণের প্রতি ভালোবাসা—সব মিলিয়ে খেলোয়াড় হিসেবে তার সাফল্য ও পরিচিতি এমন কোনো পরাজয় কাম্য নয়। রাজনীতি জটিল, কাছের কেউ যথাযথভাবে সহযোগিতা করেনি।

জাতীয় দলের আরেক সাবেক ফুটবলার ও মোহামেডান দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবও একইভাবে অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

তিনি বলেন, এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমিনুল হেরেছে। তার অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা তাকে অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রাখে।

উপমহাদেশে দাবায় প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার ও জাতীয়বাদী ক্রীড়া দলের আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, শুধু খেলোয়াড় বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও আমিনুল অত্যন্ত যোগ্য। তার পরিশ্রম ও ত্যাগের মূল্য দিতে হবে। এই মুহূর্তে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুল হক। 

আরও পড়ুন: গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৬৮.০৬ শতাংশ

তিনি আরও যোগ করেন, দল চাইলে তাকে সংসদ সদস্য না হলেও টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

নিয়াজ মোর্শেদের মতে, মিরপুরের তিনটি আসনে বিএনপি হেরেছে; তবে ক্রীড়াঙ্গনের একজন হিসেবে আমিনুল হকের সম্ভাবনা এখনও অটুট। 

বিপ্লব ভট্টাচার্য্যও বলেন, গত এক দশকে আমিনুল যে জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, তা অনেক শীর্ষ নেতার ক্ষেত্রেও দেখা যায় না। যোগ্যতার বিচারে তাকে সম্মান দেওয়া উচিত। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন উপকৃত হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় আমিনুল হকের পাশে ছিলেন বিভিন্ন সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালও কয়েক দিন জনসংযোগ করেছেন তার পক্ষে। হারের পরেও তাদের অভিমত একই আমিনুলের যোগ্যতা ও ত্যাগের মানসিক মূল্যায়ন করতে হবে।

নির্বাচনে সাবেক খেলোয়াড়দের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাফুফের সাবেক সভাপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩, মোহামেডানের সাবেক নীতিনির্ধারক মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা-৬, ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬, সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন চাঁদপুর-১, মোহামেডানের সাবেক সহ-সভাপতি শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৬, ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবি খুলনা-৫, ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সদস্য কামরুজ্জামান রতন মুন্সিগঞ্জ-২, সাবেক ক্রীড়া মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ এবং বাফুফের জামালপুরের কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানের ছোট ভাই ওয়ারেস আলী মামুন এরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের জয় হলেও ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় ক্ষত ছিল আমিনুল হকের পরাজয়।

ঢাকা-১৬ আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে ১৩৮টি কেন্দ্রে। ভোটার উপস্থিতি ৪৬ শতাংশ। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯৯ জন, এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৩ জন। বৈধ ভোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৯টি, বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৪টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম (হাত পাখা প্রতীকে) পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. সুলতান আহম্মেদ সেলিম (লাঙ্গল প্রতীকে) পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ ভোট।

সরাসরি গণনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আমিনুল হকের পরাজয় ঘোষণা করেছেন। তবে সংবিধানের সুযোগ অনুযায়ী সংসদ সদস্য না হলেও ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আশার আলো হিসেবে রয়ে গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়