News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৭:২৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি না হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি না হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিরামহীন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনী মাঠের লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রচার-প্রচারণায় কোনো ধরনের কমতি রাখছেন না তিনি। 

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সদর আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

ধর্মীয় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বিকেলে জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় মির্জা ফখরুল একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। 

তিনি বলেন, একটি পক্ষ দাবি করছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ঈমান নষ্ট করার অপচেষ্টা। দেশের প্রখ্যাত আলেমদের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ বলেছেন এবং চরমোনাইয়ের পীর দলটিকে চরম ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 

ফখরুল ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন এমন বিভ্রান্তিতে পড়ে নিজেদের ঈমান ও গণতান্ত্রিক অধিকার নষ্ট না করেন।

আঞ্চলিক উন্নয়নের অঙ্গীকার নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও জেলাকে একটি মডেল অঞ্চলে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

আরও পড়ুন: রাষ্ট্র সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ফখরুলের

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে এই এলাকায় একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন তিনি। 

বেকারত্ব দূর করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কল-কারখানা এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়াও তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভোটারদের আবেগ ও ‘স্যার’ সম্বোধন ঠাকুরগাঁও সদরের সাধারণ মানুষের কাছে মির্জা ফখরুল এক সময়ের শিক্ষক হিসেবে ‘স্যার’ নামেই সমধিক পরিচিত। পৈতৃক বাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রাম ও হাটে তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ লক্ষ্য করা গেছে। ২৯ মাইল এলাকায় রাস্তার কাজ চলায় তিনি গাড়ি থেকে নেমে ভ্যানে চড়ে জনসভায় যোগ দিলে স্থানীয়রা তাকে টাকার মালা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনেক সমর্থক তাদের জমানো সঞ্চয়ের ব্যাংকও তার হাতে তুলে দেন। 

ভোটারদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, এটিই তার জীবনের শেষ নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নির্বাচনী সহিংসতা বা কোনো প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব ভোটারদের অভয় দেন। 

তিনি বলেন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আমি যতদিন আছি, ততদিন আপনাদের কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। পথসভা শেষে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে প্রচারণার সমাপ্তি টানেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়