News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপি জানে কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়: তারেক রহমান

বিএনপি জানে কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রচারণার শেষ দিনে রাজধানীতে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে ঢাকা-৮, ঢাকা-১০ সহ রাজধানীর বিভিন্ন আসনে পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 

তিনি ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা এবং সারাদেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিগত ইনস্টিটিউট এবং আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

আরও পড়ুন: বিদেশ যেতে জমিজমা বিক্রি করতে হবে না: তারেক রহমান

বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থসংকটের কারণে কাউকে পৈত্রিক জমি বিক্রি করতে হবে না; বরং সরকারি উদ্যোগে বিশেষ ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি।

দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান কঠোর বার্তা প্রদান করে তিনি বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা জানে কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিল। 

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ভাষণে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খালেদা জিয়ার আমলের শিল্পায়নের উদাহরণ টেনে বলেন, বিএনপি শুধু গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দেশ পরিচালনার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রাখে।

ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও জালিয়াতির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল নকল ব্যালট পেপার ও সিল তৈরির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। যারা মা-বোনদের এনআইডি কার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিটি পোলিং সেন্টার পাহারা দেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচিত হলে জনসেবার পরিধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মাননা ভাতা প্রবর্তনের কথা জানান। ঢাকা-৮ আসনের জলাবদ্ধতা নিরসন, খেলার মাঠ নির্মাণ ও কবরস্থানের জায়গা সম্প্রসারণের বিষয়েও তিনি স্থানীয়দের আশ্বাস দেন। মির্জা আব্বাস ও শেখ রবিউল আলম রবির মতো প্রার্থীদের যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন।

বনানী থেকে শুরু করে কলাবাগান, মতিঝিল ও বাসাবোসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর এই প্রচারণায় হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়