ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার পাঠে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৯০
ছবি: সংগৃহীত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী‑ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল দ্রুত রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রথমে মঞ্চে চেয়ার বসার বিষয়কে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ পর্যন্ত গড়ায়। উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাধ্যমে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কয়েকজনকে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী সহিংসতা: চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯
ঘটনার পরপরই শেরপুর ও ঝিনাইগাতী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিতে শুরু করেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এই সংঘর্ষ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর রয়েছে।
ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








