News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০১, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনী সহিংসতা: চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯

নির্বাচনী সহিংসতা: চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পৃথক দুটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ৯ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর গণসংযোগ মিছিলের সময়, আমবাগান এলাকায় অবস্থিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের বিএনপি সমর্থিত কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উভয় পক্ষ একে অপরকে স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় জামায়াতের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে। সাতজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয় এবং মিছিলের সময় আমাদের মোবাইল, হ্যান্ডমাইক ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, বিএনপি কার্যালয়েও হামলার অভিযোগ ওঠে। নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন জানান, বহিরাগতরা মিছিলের সঙ্গে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। 

তিনি নিশ্চিত করেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জামায়াত সদস্য নন।

আরও পড়ুন: বিএনপি প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিবাদে যাবে না: মির্জা আব্বাস

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, পাল্টাপাল্টি স্লোগান থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরে অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেলেও পুলিশ উপস্থিতির সময়ে এমন ঘটনা ঘটেনি।

একই দিন দুপুরে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদরপাড়ায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির নির্বাচনী কর্মী শামসুল আলম (৬১) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) আহত হন এবং পরে স্থানীয়রা তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বিএনপি অভিযোগ, দলের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচনী ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর সময় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এটি নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। 

তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতা মুহাম্মদ তারেক হোছাঈন ঘটনা থেকে নিজ দলের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল হতে পারে।

সাতকানিয়া থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত, তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উভয় ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে একে অপরকে দায়ী করার অভিযোগ আসছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়