News Bangladesh

রাজনীতি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৩, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ০৮:৪৩, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বাধা নয়: মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বাধা নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা। তবে তিনি জানান, তাকে ফেরত পাঠানো না হলেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পর্ক স্থাপনে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। বরং দুই দেশের মধ্যে আরও উন্নত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড এবং তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জটিল হলেও সহযোগিতার ক্ষেত্র বন্ধ হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতে অবস্থান করলেও, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেছিলেন। একই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ঢাকায় এসেছিলেন।

দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, ফারাক্কার পানি বণ্টন এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড—নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো সুযোগ নেই; বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

আরও পড়ুন: সহিংসতার ইতি না ঘটলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত। ২০২৪ সালের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐকমত্য গঠনে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি শিক্ষা, ব্যবসা ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণের বোঝা কমানো, মেগা প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন এবং দেশের স্বার্থে কার্যকর প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখা নতুন সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়