News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল এনসিপি

অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল এনসিপি

ফাইল ছবি

দীর্ঘ চার মাসের নাটকীয়তা ও নানামুখী শর্তের বেড়াজাল পেরিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির প্রতিনিধিদল এই সনদে সই করেন।

এদিন সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যমুনায় প্রবেশ করেন। 

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে তারা এই জাতীয় দলিলে নিজেদের সম্মতি প্রদান করেন। 

এর আগে দুপুরে দলটির মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম এক বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ ৭ মাসব্যাপী আলোচনার পর ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৫টি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। সেসময় ২৪টি দল স্বাক্ষর করে, পরে আরও একটি দল স্বাক্ষর করেছে। তবে এনসিপি তখন স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না এবং স্বাক্ষরও করেনি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, কোনো দল স্বাক্ষর না করলে পরবর্তীতে সই করার সুযোগ থাকবে। এনসিপি তখন স্বাক্ষর না করার কারণ হিসেবে তিনটি দাবি তুলে ধরেছিল। 

আরও পড়ুন: নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ

প্রথম, সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে প্রকাশ ও প্রধান উপদেষ্টাকে জারি করতে হবে। 

দ্বিতীয়, গণভোটে জনগণ যদি সনদের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা থাকবে না। 

তৃতীয়, গণভোটের ফল অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ সংবিধান সংস্কার করবে এবং নতুন সংবিধানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, সনদে তখন স্বাক্ষর না করার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল ও বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকা অন্যতম কারণ। স্বাক্ষর না করার ফলে জনমতের গুরুত্ব বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সনদ বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ার পর স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতে কেউ যেন এই সংস্কারকে নাকচ করতে না পারে। এছাড়া আগামী ছয় মাস বা ১৮০ দিনের সংসদ কার্যকালীন সময়ে আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের লিগ্যাল অথরিটি প্রশ্নবিদ্ধ না হতে পারে।

এনসিপি স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্তকে তিনি গণতান্ত্রিক সংলাপের অংশ ও স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ার পর দলটি মনে করছে, জনগণের এই সিদ্ধান্তের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম সুনিশ্চিত করা তাদের কর্তব্য।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এ আদেশের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি ৮৪টি সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টির ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং না ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।

এভাবেই দীর্ঘদিন পর জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়