‘নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে হারাতে চেয়েছিল বিএনপি’
ছবি: সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গেই নয়, বরং নিজের সাবেক দল বিএনপির সর্বাত্মক বিরোধিতার বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এই নেত্রী তার বিশাল জয়ের জন্য ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তার জয় কেবল নিজের নয়, বরং নেতাকর্মী ও ভোটারদের জয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির কিছু পদধারী নেতার কুৎসিত মন্তব্যের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞ। কারণ, এই প্রতিক্রিয়াই হয়তো এত ভোটের ব্যবধানে তার বিজয় নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও অকৃতজ্ঞতার জবাব দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুমিন ফারহানা জানান, এই নির্বাচনে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গেই লড়তে হয়নি; বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে তার বিরুদ্ধে নেমেছিল। দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান অনুযায়ী মনে করা হয়েছিল যে, দলের ইমেজের চেয়ে ব্যক্তির খ্যাতি বেশি হতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমি রুমিন হয়েছি শুধু বিএনপি একসময় করতাম এইজন্য; তারা বলেছিল রুমিনকে হারাতেই হবে।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিনিয়ারিং করে এত ভোট পেয়েছে পাটওয়ারী: মির্জা আব্বাস
বিজয়ের পর রুমিন ফারহানা নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমার এই নির্বাচনের প্রস্তুতি ২২ বা ২৫ দিনের নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত চার-পাঁচদিন এলাকায় ছিলাম। এই প্রস্তুতি অনেক আগের। এটা আমার নেতাকর্মীদেরও প্রস্তুতি। এই জয় আমার নয়, আমার ভোটারদের।
নির্বাচনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেঁজুর গাছ’ প্রতীকে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল ভোটের অধিকারের জন্য এবং সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। তিনি সেই আন্দোলনের অংশ ছিলেন। তবে দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে দেখা গেছে, কীভাবে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা হয়, কীভাবে জুলুম, জমি-ব্যবসা দখল ও চাঁদাবাজি করা হয়।
তিনি বলেন, আমি কি সেগুলোর সঙ্গী হবো? তা তো নয়। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের। আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০২৬ এ যে ভুল করেছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না। গত দেড় বছর তারা মানুষকে নানাভাবে বিরক্ত করেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি হবে না। এটুকুই আমার আশা।
বিজয়ের খবর পাওয়ার পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সকাল থেকেই তারা রুমিন ফারহানা বাসভবনে ভিড় করছেন এবং ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত নেত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাবেন এবং নির্বাচনের এই বিজয় তাদের সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








