‘ভোট বর্জনের পরিকল্পনা নেই, ব্যালটে হবে নীরব ভোট বিপ্লব’
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ ও জোটের অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১-দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জন বা ভোট বয়কটের কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর পল্টন কলেজ ও আশপাশের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত মাঠের পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো বিপত্তি আমাদের চোখে পড়েনি। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘ বছর পর দেশের মানুষ আবারও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রকৃত উত্তরণের পথ প্রশস্ত করবে।
দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।
তার বিশ্বাস, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদানের মধ্য দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে একটি ‘নীরব ভোট বিপ্লব’ ঘটবে, যা দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, সবাই যেন নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বহু বছর পর এমন পরিবেশে ভোটগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্র রুখতে ভোটকেন্দ্রে আসার ডাক তারেক রহমানের
তবে নির্বাচনী সুষ্ঠুতা নিয়ে কিছু শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।
তার অভিযোগ, ঢাকা-৮ আসনে ‘লাঙ্গল’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকধারী প্রার্থীরা মিলেমিশে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে ডামি প্রার্থী দিয়ে জাতীয় পার্টি নির্বাচনী সমীকরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশে বাধার অভিযোগও করেন পাটওয়ারী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর অনুসারীরা শুরুতে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’র এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেন। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন শুরু করতে সক্ষম হন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনীর এই তৎপরতার প্রশংসাও করেন তিনি।
বিচ্ছিন্ন কিছু বাধা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার ক্ষমতা কারো নেই বলে মন্তব্য করে প্রশাসনের প্রতি ছোটখাটো অভিযোগগুলোর দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান পাটওয়ারী। এতে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা-৮ আসনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। পাটওয়ারীর মতে, তরুণ ভোটারসহ সাধারণ জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন, তবে ফলাফল জোটের পক্ষেই আসবে।
তিনি আরও জানান, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
তাদের বিশ্বাস, ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ সঠিক নেতৃত্বকেই বেছে নেবে। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








