News Bangladesh

রাজনীতি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ০৯:৪১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান

প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান।

এর আগে একই দিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনি প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জনপদ ১৯ দিনে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

তার প্রচারণা শুরু হয় সিলেট থেকে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে মাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’-এ অংশ নেন তারেক রহমান। এরপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা এবং ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দেন।

একই দিনে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন তিনি।

পরদিন ঢাকার ভাষানটেক বিআরবি মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছুদিন প্রচারণার গতি কমলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভায় আবারও চেনা ছন্দে ফেরেন তারেক রহমান। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা এবং সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা দেন তিনি।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন। এরপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা হয়ে উড়োজাহাজে উত্তরাঞ্চলে সফর করেন—রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়ায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় রাত কাটান তিনি, যা রাজনৈতিক সফরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগেও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

রংপুরে গিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল হয়ে খুলনা ও যশোরে যান। বরিশালে হেলিকপ্টারে পৌঁছে ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কথা বলেন।

তারেক রহমান ফরিদপুরে বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার অঙ্গীকার করেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষে একই আহ্বান জানান,‘সবার আগে বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুন: ‘শহীদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব’

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৫টি আসনে ধারাবাহিক জনসভা করেন তিনি মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও লালবাগ এলাকায়। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ দিকের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় তার নির্বাচনি প্রচারণা। যে প্রচার শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে, তা শেষ হলো বাবা–মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়