News Bangladesh

রাজনীতি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২২:০৭, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বৈষম্য দূর করে ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’ গড়ার অঙ্গীকার নাহিদ ইসলামের

বৈষম্য দূর করে ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’ গড়ার অঙ্গীকার নাহিদ ইসলামের

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক বৈষম্য দূর করে ‘ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুম, হত্যা, বিনাবিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা পরিচালনায় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন। এ কাজে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এই অপকর্মে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বা ‘জুলাই বিপ্লব’ সম্পন্ন হওয়ার পর এই ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে পড়েছে। নেতৃত্বদানকারী অনেকেই দেশ ছেড়েছে, কেউ কেউ বিচারের আওতায় এসেছে এবং অনেককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে বহু সামরিক ও বেসামরিক আমলা এবং বিচারক এখনো দায়িত্বে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগ, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রতিরক্ষা বিভাগ এখনো অটুট রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার খুনি ও অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া, সেখান থেকে নিরাপদে দেশান্তরিত হওয়া এবং কিছু জেনারেলের কর্মস্থল ত্যাগ করার ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হলেও সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গুমবিষয়ক কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, কমিশন ইতোমধ্যে এক হাজার ৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করেছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আল্লাহ তায়ালা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন: মির্জা আব্বাস

ভাষণের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের লড়াই হবে সেই নিপীড়নের ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন করা, যাতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সব প্রবণতা সমাজ থেকে মুছে ফেলা যায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়