News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না’

‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না’

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর) নাম এবং এই বাহিনীর সাবেক ইউনিফর্ম ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের সম্মানে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিএনপি গঠিত ‘সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি’। দীর্ঘ সময় পর এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর “পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তি” মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে এবং পোশাকের রংও বদলে দেয়। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা ট্র্যাজেডির দিনটিকে জাতীয়ভাবে স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার সুপারিশের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ প্রস্তাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে এসব সুপারিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে’ ইতোমধ্যে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে এটি দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সেনাবাহিনীকে নিজের “বৃহত্তর পরিবার” হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তার বেড়ে ওঠা সেনানিবাসে। ছোটবেলায় বাবাকে হারালেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে তিনি সবসময় সেনাবাহিনীর প্রতি নির্ভরতা ও সম্মান দেখেছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা তার মা বিশ্বাস করতেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: বাবার পক্ষে গণসংযোগে নামলেন জাইমা রহমান

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কথা দেশের গণতান্ত্রিক জনগণের মতো তার পরিবারও বিশ্বাস করে এবং সশস্ত্র বাহিনীও তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের “নির্ভরযোগ্য প্রহরী” হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাহিনীকে ভিন্ন কাজে যুক্ত করা হলে তাদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। গত দেড় দশকে বাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব সম্পর্কে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। 

তার ভাষায়, দেশ তাবেদার ও অপশক্তির কবলে পড়ায় গণতন্ত্র হরণ হওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ে; এমনকি পিলখানার পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনেও সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি।

সেনাবাহিনীর গৌরব “ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, এটি অর্জনের বিষয়” এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সদস্যদেরই সচেতন থাকতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেনাবাহিনীকে কখনোই দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না—এ কথা স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপি এমন কোনো কাজ করেনি, বর্তমানেও করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপি সবসময় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত নয়। রাজনীতির চাদরে যেন বাহিনীর পেশাদারত্ব আচ্ছাদিত না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তা ও সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) মিজানুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদসহ অনেকে।

মতবিনিময় সভায় মেজর (অব.) মিজানুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সবাইকে তারেক রহমানকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন; গুলশানের বাসার দরজা ভেঙে স্ত্রী-সন্তানের সামনে থেকে তাকে তুলে নেওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারেক রহমান দৃঢ় থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানান এবং ঢাকা-১৭ আসনে তার বিজয়ের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়