নারীদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
তারেক রহমান। ফাইল ছবি
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে তারা ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ সুবিধা বাড়ানো হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘদিন পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসার অনুভূতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এক সময় প্রতি বছর শীত মৌসুমে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে গিয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করতেন। তবে স্বৈরাচার সরকারের কারণে দীর্ঘদিন সেখানে আসতে পারেননি। এখন সময় এসেছে দেশ গঠনের। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।
নারীদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। এতে নারীরা শিক্ষিত হলেও এখনো পুরোপুরি স্বাবলম্বী হতে পারেননি। দেশের অর্থনীতিতে নারীদের বড় ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা নিরাপদ জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
কৃষকদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রত্যেক কৃষককে একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা সহজে কৃষিঋণ, সরকারি সারসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন। ধানের শীষ জয়ী হলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ঋণও সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান। কৃষিকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড়ের বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে, এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং তরুণদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বেকার যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষিত যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে জনগণের কোনো লাভ নেই। বিএনপি পরিকল্পনার রাজনীতি করতে চায়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: ‘জাল ভোট দিতে বিপুলসংখ্যক বোরকা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে’
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বলতেন ‘বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা’। বিএনপির নেতাকর্মীদের শেষ ঠিকানাও এই বাংলাদেশ।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








