রাষ্ট্র পরিচালনায় জনকল্যাণমুখী অঙ্গীকার পেশ করেছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনকল্যাণে সুদূরপ্রসারী অঙ্গীকারনামা পেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘোষিত এই রূপরেখায় ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতিসহ মোট ৫১ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছে। এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতির কথা উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইশতেহারটি বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
দলটি ঘোষণা করেছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকে সুশাসন ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখা হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। উন্মুক্ত দরপত্র, তাৎক্ষণিক নিরীক্ষা, প্রকল্পের কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন, একক সেবা ব্যবস্থা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারে নয়টি অগ্রাধিকারসহ ৫১ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি বলেছে, ক্ষমতায় গেলে একটি কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সব পরিবারকে ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য বিশেষ কার্ড চালু, বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কার্যকর পেনশন তহবিল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও অংশগ্রহণকারীদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বিভাগ শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার দ্রুত বিচার তদারক করবে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র পুনর্গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা, ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি শনাক্ত ও সংরক্ষণ, শহীদদের তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যে দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্যপদ পূরণে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মী নিয়োগ এবং মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক সংযোগ ব্যবস্থার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার কার্ড নারীপ্রধানের নামে ইস্যু, উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার কথাও রয়েছে ইশতেহারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তামূলক উদ্যোগের মধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী করা, নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে জনশুনানি চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই নীতির ভিত্তিতে সব নাগরিকের ধর্মচর্চার পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপি বলছে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং সামাজিক মর্যাদাভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








