নয়াপল্টনে বিএনপির সমাপনী সমাবেশ রবিবার
ফাইল ছবি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাপনী জনসভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে আগামীকাল শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, জনসভা দুপুর ২টায় শুরু হবে এবং এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত থাকবেন ও বক্তব্য রাখবেন। ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বিএনপির প্রার্থীরা এতে অংশ নেবেন। দলীয় সূত্র জানায়, জনসভাটিকে নির্বাচনপূর্ব চূড়ান্ত শক্তিপ্রদর্শন হিসেবে দেখছে বিএনপি। এ উপলক্ষ্যে নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলের বিভিন্ন ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
রিজভী জানান, ঢাকায় দলের সর্বশেষ কর্মসূচি পূর্বঘোষিত ৯ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। শেষ নির্বাচনী সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এটাই দলের বড় আশা।
আরও পড়ুন: নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
বিএনপি সবসময় মানুষের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত নিপীড়ন সহ্য করেও দলটিকে দমন করা যায়নি। দেশের মানুষ ‘ধানের শীষ’কে শুধু একটি প্রতীক নয়, বরং আবেগ হিসেবে ধারণ করে এবং সেই আবেগ নিয়েই জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তার মূলে নেতাকর্মীদের দীর্ঘ ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। শত অত্যাচারের মধ্যেও নেতাকর্মীরা দমে যাননি, কারণ তাদের নেতৃত্বে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
তাঁর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং অমানবিক নির্যাতনের মুখেও খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দেওয়া বন্ধ করেননি; নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি জনগণকে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের পতাকা দিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীরের একটি স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না’ নিজে একটি কাজ করে সেটিকে নানাভাবে ঢাকার চেষ্টার কারণেই এই প্রবাদ চালু হয়েছে। বর্তমানে যা কিছু দেখা যাচ্ছে, তা ওই প্রবাদটিরই প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, জামায়াত এখন যা কিছু করছে, সবই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র শামিল।
এদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আগামীকাল শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানান রিজভী।
তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরায় সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণ এবার ধানের শীষে ভোট দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি এবং বলেন, কোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে বিএনপির অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








