১৮ মাসে এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি বেকার যুবকের চাকরির ব্যবস্থা করবে ঘোষণা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপির এই ভিশন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ব্যাপক হারে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেবে বিএনপি।
দেশের উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিএনপির ভিশন তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং যুবকদের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সবসময় কাজে ও কর্মে বিশ্বাস করি, নিছক তাত্ত্বিক সমালোচনায় নয়। আজকে এমন একটি দল আপনাদের সামনে এসেছে, যাদের আগে কখনো দেখা যায়নি। তারা রাজনীতি করবেন, করতে পারেন, কিন্তু দয়া করে মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলবেন না।
ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার এবং মানুষের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি পক্ষ ইসলামের কথা বলে জনসাধারণকে ভুল ধারণায় ফেলছে। মা-বোনদের ভুল বোঝানো হচ্ছে যে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব, একে পেছনে ফেললে অস্তিত্ব হারাব: ফখরুল
মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। জান্নাত পাওয়া বা না পাওয়া নির্ভর করে মানুষের আমল ও ভালো কাজের ওপর, ভোটের মার্কার ওপর নয়। চরমোনাই পীরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রকৃত ইসলামী দল নয়।
বিগত দিনের নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার নামে ১১৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং আমি সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০ বছর জেল খেটেছেন। গত কয়েক বছরে আমাদের ২০ হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তিনি ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক নাগরিকের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, তেল ও কৃষিপণ্য ক্রয় করতে পারবেন। কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রান্তিক নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়িত্ব সরকার বহন করবে।
পথসভায় এক কিশোর মির্জা ফখরুলকে জমানো টাকার একটি মাটির ব্যাংক উপহার দেন। অনুষ্ঠানে জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির সহায়তায় ভুট্টা চাষের সূচনা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








