News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কারে জামায়াতের ২৬ দফার ‘জনতার ইশতেহার’ ঘোষণা

রাষ্ট্র সংস্কারে জামায়াতের ২৬ দফার ‘জনতার ইশতেহার’ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দলটি ইশতেহারের নাম দিয়েছেন ‘জনতার ইশতেহার’। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশের রূপরেখাকে কেন্দ্র করে ইশতেহারটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর ইশতেহারের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। 

মঞ্চে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটিতে দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জনতার ইশতেহার’-এ মোট ২৬টি অগ্রাধিকারসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এখানে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং উন্নত আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ খাতেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুব প্রযুক্তি নেতৃত্বের উদ্যোগ ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জামায়াত দাবি করেছে, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। 

দল বলেছে, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোট কেড়ে নিতে আসলে হাত গুঁড়িয়ে দেবো: জামায়াত আমির

নির্বাচনি ইশতেহারে জামায়াত যে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে, সেগুলো হলো:

১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রাধিকার।
৪. নারীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র।
৫. আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র।
৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ।
৭. প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি চাকরিতে ন্যায্য নিয়োগ।
৮. আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব এবং টেকসই স্বচ্ছ অর্থনীতি।
৯. সমানুপাতিক নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ এবং কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিতকরণ।
১০. [মূল তালিকায় ১০ নম্বর বাদ দিয়ে ১২–২৬ পর্যন্ত অগ্রাধিকারসূচি ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত]
১২. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকের সহযোগিতা বৃদ্ধি।
১৩. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূনা ভিশন’ বাস্তবায়ন।
১৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
১৫. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, নারীর নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
১৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ।
১৭. নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা শ্রেণি ও গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা।
১৮. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, গরিব ও অসহায়দের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা।
১৯. শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা।
২০. দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ।
২১. যাতায়াত ব্যবস্থার সংস্কার ও রাজধানী-অঞ্চলীয় শহরগুলোর দূরত্ব দুই-তিন ঘণ্টায় আনা।
২২. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন।
২৩. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ এবং বিচার সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
২৪. সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা চালু করে নিরাপদ কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা।
২৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন এবং কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
২৬. সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।

জামায়াতের এই ইশতেহার মূলত রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বমুখী সংস্কার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। দলটি মনে করছে, তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা দেশের ভবিষ্যৎ ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়