ফরিদপুরে দুর্নীতির মেগা প্রকল্প বন্ধের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরে আয়োজিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তর করা হবে। একইসঙ্গে কৃষির উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেছেন, আজকের জনসভার প্রধান শপথ ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
দেশ গঠনের কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ শুধু নির্বাচনের দিন নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। গত ১৫ বছরে যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে দেশের প্রতিটি মানুষকে ৫ আগস্টের মতো রাজপথে এবং ভোটকেন্দ্রে নেমে আসতে হবে।
তারেক রহমানের ভাষ্য, ১৯৭১ সালে সংগ্রামী জনতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং চব্বিশে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে জীবন দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে এ অর্জন ধরে রাখতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জনগণ যাদের ‘গুপ্ত’ নামে ডাকে, তারা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের রূপ বদলায় এবং জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই। জনগণকে কীভাবে অপমান করা হয় এর প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ওই দলের প্রধান এ দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যাদের নিজ দেশের মা-বোনদের প্রতি সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। একাত্তর সালেও তারা এর প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: দেশে ‘গুপ্ত’ পরিচয়ে নতুন জালিমের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
তিনি আরও বলেন, তারা মুখে এক কথা বললেও কাজে ভিন্ন আচরণ করে। এমনকি তারা নাকি বলেছে ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরে থাকবে, আর ১৩ তারিখ থেকে জনগণ তাদের পা ধরবে। এ থেকে জনগণের প্রতি তাদের বিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে ‘গুপ্তদের’ কেউ কেউ মা-বোনদের কাছে বিকাশ নম্বর চাইছে এবং মানুষের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছে। অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করা লোকজন কীভাবে সুশাসন দেবে- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বহু ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে; তাই চলমান ষড়যন্ত্র ১২ তারিখে রুখে দিতে হবে।
দেশ গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে খাল খনন, নদী পুনর্খনন, নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের সুবিধার্থে হিমাগার তৈরির মতো কাজ এগিয়ে নেওয়ার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। তবে এখনো কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নারী ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। প্রয়োজনে জামাতে নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে। শুধু ভোট দিয়ে চলে গেলে হবে না; ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যেন অন্য কেউ ভোট দিতে না পারে।
মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। মনে রাখতে হবে এ দেশ কোনো দলের নয়, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়; এ দেশ জনগণের।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








