News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারালেন জামায়াত সেক্রেটারি

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারালেন জামায়াত সেক্রেটারি

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৫০) নিহত হয়েছেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সহিংসতায় সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে থেমে থেমে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ঝিনাইগাতীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর চেয়ার বসানোর বিষয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়।

এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েক’শ চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে থাকা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন কর্মীসমর্থক আহত হন। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহকালে দুইজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন: ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার পাঠে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৯০

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান জানান, বিএনপির হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে কাজ করে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন দুই দলের প্রার্থীরা। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে তাদের দলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, উগ্রবাদী ও জঙ্গি জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বসাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জামায়াত নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে শেরপুর শহরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীবরদীতে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করা হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়