‘বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার চেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি’
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ‘বিজয়ের’ নতুন ইতিহাস রচনার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা লজ্জাজনক এবং ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান আরও সতর্ক করেছেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিল যখন এগিয়ে যায়, তখনই ষড়যন্ত্রকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের পক্ষে সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা সেই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ওসমান হাদির অপরাধ কী? সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের কাছে ঘটনার প্রকৃত চেহারা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা কারা চালাচ্ছে, নির্বাচন ছাড়াই সরকার বহাল থাকলে কারা লাভবান হবে, আর জনগণের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কারা উপকৃত হবে- এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই ঘাতকদের পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি শক্তি এখনও সক্রিয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত হানতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি অতীতেও সক্রিয় ছিল, এখনো রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের রঙ-রূপ বদলালেও ষড়যন্ত্রের চরিত্র পরিবর্তিত হয়নি।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা এবং ঐক্যই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।
আরও পড়ুন: ‘অহংকার, আনন্দ ও বেদনার মহাকাব্যিক দিন ১৬ ডিসেম্বর’
তারেক রহমান মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্যও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন হলো মহান বিজয় দিবস। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই দিবসের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চালানো একটি ‘পরাজিত ও পতিত চক্রের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার এই অপরিণামদর্শী চেষ্টার সুযোগ নিয়েই আজ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ‘বিজয়ের’ নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা লজ্জাজনক এবং ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে না পারলে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব টেকসই হবে না। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্রযন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। তাই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকারই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির মূল ভিত্তি।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল।
তিনি বলেন, এটি কেবল একটি নির্বাচনি পরীক্ষা নয়; বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
তিনি আগামী দশককে ‘রূপান্তরের দশক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ‘দেশ গড়ার কর্মসূচি’ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নারী, তরুণ, কৃষক-শ্রমিকসহ দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
সর্বশেষ তিনি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শুভেচ্ছা জানান এবং ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এইভাবে, চারটি আলাদা রিপোর্টের তথ্য উপাত্ত অপরিবর্তিত রেখে একত্রিত এবং প্রফেশনাল সংবাদ আকারে সাজানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








