অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো দলের পক্ষে নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত
দেশের জনগণকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে এবং ভোটাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলায় ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’ যাত্রা শুরু করেছে।
এই উপলক্ষ্যে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ভোলা বালক সরকারি স্কুল মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো দলের পক্ষে নয়। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার তারা ইচ্ছা মত ভোট দিতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে।
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর সত্যিকার অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি। এর ফলে ৩০ বছরের নিচে যুবকরা এখন পর্যন্ত ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আমাদের লক্ষ্য, এবার প্রত্যেক নাগরিক যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন এবং সরকার তাদের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না।
আরও পড়ুন: রবিবার ইসিতে উপস্থাপিত হবে তারেক-জাইমার ভোটার নথি
তিনি বলেন, আমরা সারা পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষকদের আহ্বান করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার রিপাবলিক ইনস্টিটিউট পর্যবেক্ষক পাঠাবে। আমরা তাদের বলেছি, সরকার আপনাদের কোনো সাহায্য করবে না যতক্ষণ না আপনারা চাইবেন। সরকার যদি এগোত, তবে মনে হতে পারে যে আমরা প্রভাব বিস্তার করছি। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার পালন করবে।
তিনি এও বলেন, পর্যবেক্ষক কারা হবেন, তা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। সরকার এখানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। কমিশন যাদের নিরপেক্ষ মনে করবে, তাদের অনুমোদন দেবে। আমরা চাই বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকুক, যাতে নির্বাচনের সময় কেউ কোনো গণ্ডগোল করতে না পারে।
ভোটের গাড়ি ‘ক্যারাভান’ একটি সিম্বলিক প্রচারণা, যা জনগণের কাছে নির্বাচনের গুরুত্ব ও গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে, ভোটাধিকার সচেতনতা তৈরি করবে এবং গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এমন ১০টি গাড়ি দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ঘুরে প্রচারণা চালাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শেষ করেন, নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরে আসা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








