News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রিজার্ভ চুরি: ৯৩ বার পেছাল প্রতিবেদন, নতুন তারিখ ৯ এপ্রিল

রিজার্ভ চুরি: ৯৩ বার পেছাল প্রতিবেদন, নতুন তারিখ ৯ এপ্রিল

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে গেছে। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ৯৩ বারের মতো পেছাল। তদন্ত সংস্থা সিআইডি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ৯ এপ্রিল নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ফলে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান। 

এদিন তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খানও প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারার কথা জানান।

মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতারণা ও সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে পাঠানো হয় এবং স্থানীয় মুদ্রা পেসোয় রূপান্তর করে তিনটি ক্যাসিনোতে চলে যায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার দল এই অর্থপাচার ঘটায়।

আরও পড়ুন: জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা রাজধানীর মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি করা হয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫), তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায়। পরদিন ১৬ মার্চ আদালত মামলার তদন্তভার সিআইডির ওপর ন্যস্ত করলে তখন থেকেই সংস্থাটি তদন্ত চালিয়ে আসছে।

চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত এসেছে ২ কোটি ডলার। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৬৮ হাজার ডলার, পাশাপাশি অন্যান্য উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার হয়েছে। একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার ফেরত দিয়েছে ফিলিপাইন সরকারও। তবুও এখনো প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরসিবিসিতে থাকা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত আদেশ দিয়েছেন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দফায় দফায় সময় নেওয়ার পরও প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আলোচিত এই অর্থকেলেঙ্কারির বিচার প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়