News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দুই ট্যাংকার, ৪ বাংলাদেশী উদ্ধার

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দুই ট্যাংকার, ৪ বাংলাদেশী উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরের তুরস্কীয় উপকূলে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-এর দুই জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের নৌবাহিনী। এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনীয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উচ্চগতির নৌ ড্রোনগুলো ট্যাংকারের গায়ে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার স্তূপ ওঠে।

হামলার শিকার ট্যাংকার দুটি হলো ‘এমটি কায়রোস’ ও ‘বিরাট’, যা গাম্বিয়ার পতাকাবাহী। গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) এ হামলা হয় এবং পরদিন ‘বিরাট’ ট্যাংকারেও আরও একটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ‘এমটি কায়রোস’ থেকে ২৫ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ আছেন।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ তৈরি ‘সি বেবি’ নৌ ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে যুদ্ধ-অর্থায়নের মূল উৎসগুলো দুর্বল করতে এ ধরনের হামলা বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: আফগান নাগরিকদের সব ভিসা স্থগিত ও বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া পুরনো ও মালিকানা-অস্পষ্ট শত শত জাহাজ ব্যবহার করে এই ‘ছায়া নৌবহর’ গড়ে তুলেছে। এসব ট্যাংকারের নিবন্ধন, মালিকানা ও বিমা সম্পর্কেও নানা ধোঁয়াশা রয়েছে।

এই হামলার ফলে কৃষ্ণসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘কায়রোস’ এবং আরও পূর্ব দিকে ‘বিরাট’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনস্যাংশনের তথ্য অনুযায়ী, উভয় ট্যাংকারই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।

তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটেছে এবং ট্যাংকারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি তদন্তাধীন। 

ইউক্রেন দাবি করেছে, হামলায় প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের তেল পরিবহনের সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে, যা রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়