পাকিস্তানে গৃহপরিচারিকাদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন
পাকিস্তানে গৃহকর্মে সহায়তায় নিয়োজিত গৃহপরিচারিকারা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেছেন। জাতিসংঘও এই শ্রমিক সংগঠনটিকে সমর্থন দিয়েছে। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারও বাড়িয়েছে সহায়তার হাত।
রাজধানী ইসলামাবাদে এই শ্রমিক সংগঠনে ইতিমধ্যেই সদস্য হয়েছেন প্রায় ২২৫ জন। পাকিস্তানে গৃহপরিচারিকার সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ৮৫ লাখ। নতুন এই ইউনিয়ন বাড়ির মালিক ও গৃহ-পরিচারিকাদের মধ্যে একটি লিখিত কন্ট্রাক্ট বা চুক্তি চালু করতে চাইছে।
দেশটির প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারেই এক বা একাধিক গৃহপরিচারিকা রাখাটা রেওয়াজ। বাসন মাজা, ঘর ঝাড়ামোছা থেকে নানা ফাইফরমাশ খাটতে হয় তাদের। কিন্তু, মালিকের সঙ্গে তাদের কাজের কোনো চুক্তি বা কন্ট্রাক্ট না থাকায় তাদের নিয়মিতই নানা শোষণ ও অবিচারের শিকার হতে হয়।
মুনাজাই ইশহাক নামে এক গৃহপরিচারিকা বলছিলেন, মালিক তাকে মিথ্যে চুরির অপবাদ দিয়ে থানায় দিয়েছে– ইচ্ছে করে মাইনে আটকে রেখেছে, কিন্তু তিনি কিছুই করতে পারেননি।
পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারও এই ইউনিয়ন গড়ার ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। পাঞ্জাব শ্রম মন্ত্রণালয়ের ইশরাত আলি বিবিসিকে বলছিলেন, গৃহপরিচারিকাদের অধিকার রক্ষায় আগামী দুবছরের মধ্যেই আইন তৈরি হয়ে যাবে।
নতুন আইনে গৃহভৃত্য বা পরিচারিকাদের উপযুক্ত নথিভুক্তকরণ (রেজিস্ট্রেশন) এবং যাচাই-বাছাইয়েরও (ভেরিফিকেশন) ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে পাকিস্তানের জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় রয়েছে। দেশটির সবচেয়ে বড় ট্রেড ইউনিয়ন পাকিস্তান ওয়ার্কার্স ফেডারেশন গৃহভৃত্যদের ভবিষ্যৎ দ্রুত পাল্টানোর ব্যাপারে বেশ সন্দিহান।
ফেডারেশনের নেতা চৌধুরী নাসিম ইকবাল মনে করেন, "যেহেতু আইন তৈরি হবে পার্লামেন্টে এবং তার সদস্যরা সবাই হয় সামন্ততান্ত্রিক প্রভু বা শিল্পপতি – তাই তারা ট্রেড ইউনিয়নের প্রস্তাবে বাধা দেবেন বলেই মনে হয়। কারণ এতে সরাসরি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত হবে।"
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








