News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ৫ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৮:৪৯, ১৫ মে ২০২০

‘মাঝে মাঝে ম্যাডাম খুব মন খারাপ করতেন’

‘মাঝে মাঝে ম্যাডাম খুব মন খারাপ করতেন’

ঢাকা: রোববার সকালে আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজ ভাড়াবাসা ফিরোজায় ফেরার মধ্য দিয়ে কার্যালয়ে অবস্থান পর্বের সমাপ্তি ঘটলো খালেদা জিয়ার। গত ৯২ দিন ধরে বিএনপি চেযারপারসনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দিনযাপন করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। নিউজবাংলাদেশ.কমের সঙ্গে আলাপকালে কার্যালয়ে অবস্থানের দিনগুলোর বর্ণনা করেছেন তিনি-

কেমন কাটলো ৯২ দিন?

সেলিমা রহমান: ৯০-এর আন্দোলনে ম্যাডামের কাছাকাছি ছিলাম। এবারও ম্যাডামের কাছাকাছি থাকতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া। এটাতো স্বাভাবিক থাকা নয়। তাই কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে সময়ের সাথে আমরা মানিয়ে নিয়েছি।

আপনাদের দৈনন্দিন থাকা-খাওয়ায় সমস্যা তো নিশ্চয়ই হয়েছে। বিশেষ করে খাবার প্রবেশে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে তো অনেক কথা হয়েছে...

সেলিমা রহমান: খাওয়া ও ঘুমে অনেক সমস্যা হয়েছে। ছোট্ট একটি সোফাতে ঘুমাতে হয়েছে আমাকে। আর পুলিশ কার্যালয়ে খাবার প্রবেশ করতে না দেয়ায় প্রত্যেকেই খাবারের জন্য কষ্ট পেয়েছেন। মাঝখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। আপনারা জানেন, ডাক্তার নিয়মিত আমাদের চেকআপ করতেন। তবে কষ্ট হলেও আমরা একটি পরিবারের মতো ছিলাম।

চেয়ারপারসনের সময় কিভাবে কেটেছে- সে সম্পর্কে কিছু বলুন

সেলিমা রহমান: রাতে ম্যাডামের সাথে বসে কথা বলতাম। নেতারা আসলে ম্যাডাম কথা বলতেন। ম্যাডামের আত্মীয়রা আসতেন। এসব কারণে অনেক রাতে ঘুমাতাম, সকালে উঠে নাস্তা করতে বেলা হয়ে যেতো। নামাজ সেরে গোসল করে পেপার দেখে, ম্যাডামের সাথে কথা বলে সময় যে কখন চলে যেতো টের পেতাম না। সুখে ‍দুঃখে আমরা একসাথেই ছিলাম। এটা ছিল আন্দোলনের সুন্দর একটা মুহূর্ত; অন্য ধরনের একটা অনুভূতি যা বলে বোঝানো যাবে না। এটা এখন ইতিহাস।

কোকোর মৃত্যু পরবর্তী সময়টার কথা কিছু বলুন

সেলিমা রহমান: ৯০-এর আন্দোলনে ম্যাডামের কাছাকাছি ছিলাম। তার মতো ধৈর্যশীল মহিলা আছে কিনা আমার জানা নেই। তিনি দুঃখ বাইরে প্রকাশ করতেন না। ভিতরে ভেঙ্গে গেলেও প্রকাশ করতেন না। কোকো মারা যাওয়ায় তিনি খুব ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তবে তা প্রকাশ করতেন না। তারপরও দেশের জন্য, জনগণের জন্য তিনি কষ্ট করেছেন, আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। মাঝে মাঝে ম্যাডাম খুব মন খারাপ করতেন। সন্ধ্যার সময়টা ম্যাডাম নিঃসঙ্গ ফিল করতেন। নামাজ-রোজা করে বই-পেপার পড়ে নেতাকর্মীদের সাথে, আমাদের সাথে কথা বলে সময় কাটতো ম্যাডামের। তিনি সাধারণত ভারী খাবার খেতেন না। ম্যাডাম এমনিতে কম খান। তিনি দুপুরে খান না। কোকোর মৃত্যুর পর থেকে ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করতে পারতেন না। এখন কিছুটা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করছেন। তিনি সকালে জুস, দুপুরে হালকা খাবার ও রাতে সাধারণত ভাত খান।

কার্যালয়বাসের সময়টায় চরম বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে চেয়ারপারসনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলুন

সেলিমা রহমান: এই যে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ম্যাডামের নামে এতো কটু কথা বলে, কিন্তু কখনো ম্যাডামকে কটু কথা বলতে শুনি নাই। তার মতো পরিশীলিত, শালীনতাসম্পন্ন উদার মন কয়জন নেতার আছে?

তিন মাস কার্যালয়ে অনঢ় অবস্থান করার পর ম্যাডাম বাসায় ফিরলেন, বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে- এটাকে কীভাবে দেখছেন?

সেলিমা রহমান: আন্দোলনে উত্থান-পতন থাকে। আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে গুম-খুন করছে। নিজেরা বোম মেরে আমাদের নাম দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে দিচ্ছে। তারা বাসায় থাকতে পারছে না। তাদের কোনও যায়গা নাই। দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। আন্দোলন চলছে, চলবে। তবে নেতাকর্মীদের প্রতিও তাকাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “সরকার নির্বাচন দিয়েছে কৌশলগত কারণে। অথচ আমাদের নেতাককর্মী-প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড দিচ্ছে। এই অত্যাচারের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।

মোট কথা নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৯২ দিন অনঢ় অবস্থান শেষে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসায় ফেরাকে পরাজয় মানতে নারাজ বিএনপি নেতা সেলিমা রহমান। নিউজবাংলাদেশ.কমকে তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন চালিয়ে যাবার বিষয়ে ম্যাডাম দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কার্যালয়ে থেকেও যেমন তিনি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাসায় থেকেও তেমনি দিবেন। এমনতো না যে তিনি আর কার্যালয়ে যাবেন না।”

‘আন্দোলন সবসময় একই রকম থাকে না, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় থাকে’ উল্লেখ করে তিনি সেই হিসেবে তিন মাসেরও বেশি সময় টানা কার্যালয়ে অবস্থান শেষে খালেদার বাসায় ফেরাকে আন্দোলনের একটি পর্যায় বলে আখ্যা দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়