ঢাকায় ১২, চট্টগ্রামে ৯ প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াতের
ঢাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ভূমিকার স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকলেও নিজেদের স্বার্থে ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত। দলের প্রার্থীদের পাস করানোর টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। এই টার্গেট পূরণে নিজেদের শক্তিশালী ওয়ার্ডগুলো হাতছাড়া করতে নারাজ দলটির নেতারা। এরইমধ্যে তেমন কিছু ওয়ার্ডে প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও পাওয়ার আশায় চলছে দেন দরবার।
জানা গেছে, তিন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপিকে ছাড় দিলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ২০টি ওয়ার্ড নিজেদের জন্য দাবি করেছে দলটি। তবে ঢাকায় শেষ পর্যন্ত অন্তত ১২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিচ্ছে জামায়াত। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ৯টি ওয়ার্ড চূড়ান্তও করা হয়ে গেছে। জোটগতভাবে নির্বাচন থেকে সরে না এলেও নিজেদের প্রার্থীদের পাস করানোই এখন জামায়াতের প্রধান টার্গেট। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এমনটিই নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন প্রকাশ্য আন্দোলনে নেই জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও কোণঠাসা হয়ে আছে দলটি। অনেকটা গোপনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির চাইতে জামায়াত শিবিরই মাঠে থেকে আন্দোলনকে চাঙ্গা করে রেখেছে বলেও ২০ দলের অনেক নেতা দাবি করেন।
তবে সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র সে আন্দোলনে ভাটা পড়েছে। আন্দোলনের ‘আওয়াজ’ কেবল বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। একদিকে সিটি নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও অন্যদিকে নিজেদের সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করছে নীরবেই।
ঢাকা মহানগর জামায়াতের দায়িত্বশীলের এক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনই এখন তাদের প্রধান টার্গেট। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারলে আন্দোলনকে আবারও চাঙ্গা করে তোলা যাবে। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এখন এ বিষয়টা প্রকাশ করতে চাইছে না তারা। মামলা ও গ্রেফতার এড়াতেই এমন কৌশল।
জামায়াতের মতে, ২০ দলীয় জোটের প্রতি মানুষের মৌন সমর্থন আছে। সাধারণ মানুষ এখন এ জোটকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে অধিকাংশ আসনেই ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে জামায়াতের প্রতিও মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে যেসব ওয়ার্ডে জামায়াত শক্তিশালী, সেসব ওয়ার্ডে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ তারা। ঢাকায় এমন ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে বলে নিউজবাংলাদেশকে জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের এক দায়িত্বশীল নেতা।
তিনি বলেন, “আমরা ২০টি ওয়ার্ড চেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তত ১২টি ওয়ার্ডে আমাদের প্রার্থী থাকবে। এসব ওয়ার্ডে আমাদের অবস্থান খুবই শক্তিশালী।”
সূত্রমতে, মোট ৯৩টি ওয়ার্ডে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। এরমধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে একাধিক মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে তারা। মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে একজন বাদ পড়লেও তার পরিবর্তে যাতে অন্যজন নির্বাচন করতে পারে, সেজন্য তারা এ কৌশল অবলম্বন করেছে।
ঢাকা দক্ষিণের পল্টন এলাকায় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সাবেক কমিশনার খন্দকার আব্দুর রব। পাশাপাশি ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য বোরহান উদ্দিনও মনোনয়ন তুলেছেন এ ওয়ার্ড থেকে। মামলা থাকায় আব্দুর রবের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে গেছে। তার পক্ষে আপিলও করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি বৈধতা না পেলে বোরহানই জামায়াতের সমর্থিত প্রার্থী হয়ে লড়বেন।
এছাড়া মতিঝিলের একটি ওয়ার্ডে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লুৎফুর রহমান, রমনার একটি ওয়ার্ডে জামায়াত রোকন আনসারুল আলম, খিলগাঁওয়ে রোকন সাইদুর রহমান, যাত্রাবাড়ীর মীরহাজীরবাগে রোকন মাওলানা সাইদুর রহমানের নাম পাওয়া গেছে।
উত্তরের মিরপুর, রামপুরা, ভাটারা ও বাড্ডার সাতটি ওয়ার্ডে জামায়াত তাদের প্রার্থীতা নিশ্চিত করেছে। এসব আসনে কোনোভাবেই বিএনপিকে ছাড় দিতে রাজি নয় তারা। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের একটি ওয়ার্ডে জামায়াত রোকন ইকবাল কবির নিপুর নাম পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বোরহান উদ্দিন নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাদেরকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না বর্তমান সরকার। সেজন্য সবদিকের যোগাযোগও খানিকটা বিচ্ছিন্ন। তবুও যদ্দুর জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের কাছে জামায়াতের পক্ষে ঢাকায় ২০টি ওয়ার্ডে সমর্থন চাওয়া হয়েছে। তবে প্রায় শতাধিক আসনের জামায়াত সমর্থিত একাধিকজন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তবে আমরা আমাদের ওয়ার্ডগুলোতে জয়ী হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।”
চট্টগ্রামেও ৯টি ওয়ার্ডে নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। তবে যাচাই বাছাইয়ে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাহফুজুল আলম বাতিল হয়ে গেছেন। তার প্রার্থীতা বৈধ করতে ইতোমধ্যে আপিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থীও ভেবে রেখেছে জামায়াত।
বাকি ৮ ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন- ৪ নম্বরে গোলাম ফারুক, ৮ নম্বরে শামসুজ্জামান হেলালী, ১০ নম্বরে ডা. শাহাদাত হোসেন, ২৭ নম্বরে এইচ এম সোহেল, ২৯ নম্বরে ফজলে এলাহী মো. শাহীন, ৩০ নম্বরে আবুল মনসুর ও ৩৫ নম্বরে শেখ আহমুদুর রহমান চৌধুরী। এদের বেশিরভাগই জামায়াতের রোকন। কেউ কেউ ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা।
জামায়াতের নির্বাচনী পরিচালনা টিমের ঘনিষ্ঠ ঢাকা মহানগরের এক নেতা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনাই এখন মূল উদ্দেশ্য। আন্দোলন তো চলবেই। নির্বাচনও আন্দোলনেরই অংশ। নির্বাচন শেষে আবার মাঠের জোর আন্দোলন চলবে।”
জানা যায়, জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ভূমিকায় আছেন ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। তার সঙ্গে রয়েছেন নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিম, শিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল ইসলাম।
সর্বশেষ ২০০২ সালে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ছয়টি ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে। এরমধ্যে দুইটিতে বিজয়ী হয় তারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








