News Bangladesh

বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৭:৫৪, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে নিখুঁত অভিনয় ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে জয়ার অকপট স্বীকারোক্তি

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে নিখুঁত অভিনয় ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে জয়ার অকপট স্বীকারোক্তি

ফাইল ছবি

সবসময়ই গতানুগতিক ধারার বাইরে হাঁটতে পছন্দ করেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। সম্প্রতি কলকাতা সফরে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার আসন্ন কাজ, ব্যক্তিগত জীবনদর্শন, ‘ওসিডি’ চলচ্চিত্র এবং বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ ও ‘পেডোফিলিয়ার’ মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও অকপট বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

সাক্ষাৎকারে জয়া জানান, ‘ওসিডি’তে কাজ করার সময় নিজের মধ্যে নিখুঁত অভিনয়ের প্রতি এক ধরনের ‘ওসিডি’ বা পাগলামি খুঁজে পেয়েছেন।

জয়া বলেন, নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা কখনো কখনো নিজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে কাজের প্রতি মনোযোগ দিলে এই চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।

চলচ্চিত্রটির প্রস্তুতিতে জয়া পেডোফিলিয়া বা শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ বিষয়ক গবেষণাও করেছেন। 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে শিশুদের জন্য মায়া স্বাভাবিক হলেও কিছু মানুষের মধ্যে এটি যৌন আকাঙ্ক্ষায় রূপ নিতে পারে, যা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা। 

জয়া আরও উল্লেখ করেন, বাংলা সিনেমায় এখনও এই বিষয়টি পর্যাপ্তভাবে আলোকপাত হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

‘ওসিডি’র চরিত্রটি এমন একজন ব্যক্তির জীবনকথা তুলে ধরে, যিনি শৈশবে যৌন শোষণের শিকার হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: জয়ার গোলাপি আভার জাদুতে মাতোয়ারা নেটিজেনরা

জয়া জানালেন, অভিনয়ের সময় তাকে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মানসিক প্রভাবও উপলব্ধি করতে হয়েছে। 

তিনি মনে করেন, সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

মাতৃত্বের বিষয়ে জয়া নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও শেয়ার করে তিনি বলেন, মা হওয়া শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পোষ্য বা গাছের যত্ন নিয়েও নিজেকে মা হিসেবে অনুভব করি। তবে বর্তমান পৃথিবী শিশুদের জন্য অত্যন্ত অনিরাপদ।

সমলিঙ্গ সম্পর্ক নিয়েও অভিনেত্রী বলেন, সম্পর্ক মূলত মানসিক মিলন; লিঙ্গ নয়। পর্দার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার ক্ষেত্রে তিনি গল্পের প্রাসঙ্গিকতাকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেন।

অভিনয়ের চাপ সামলাতে জয়া আট ঘণ্টার শিফটকে কার্যকর মনে করেন। ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ‘ডিটক্স’ হিসেবে গাছের যত্ন নেন এবং মাঝে মাঝে ‘মোবাইল ফাস্টিং’ও করেন।

এই সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিখুঁত অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়েও সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়