রমজান মাসে স্কুল খোলা নাকি বন্ধ, জানালেন মাউশি মহাপরিচালক
ফাইল ছবি
পুরো রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সরকারের পক্ষ থেকে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে রমজানে স্কুল খোলা রাখা নিয়ে আইনি জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে, যার চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে আগামীকাল মঙ্গলবার।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান।
তিনি জানান, রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার হাইকোর্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরকার সোমবারই আপিল করেছে। এই আপিলের ওপর মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট হওয়া যাবে যে, স্কুলগুলো শেষ পর্যন্ত খোলা থাকবে নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করায় আপাতত আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।
আরও পড়ুন: রমজানে স্কুল বন্ধের হাইকোর্ট আদেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক মুসলিম এবং স্বাধীনতার পর থেকেই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি দীর্ঘকালীন প্রথা ও নীতি হিসেবে স্বীকৃত।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ১৫২(১) অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে আবেদনে বলা হয়, প্রচলিত প্রথা বা রীতিও আইনের মর্যাদা পায়; তাই রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
এ ছাড়াও মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে আবেদনে বলা হয়:
- তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য, যা তাদের রোজা রাখার অভ্যাসে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
- রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে শহরগুলোতে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইতিপূর্বে এই বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের পর সবার দৃষ্টি এখন মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিকে। ওই শুনানির পরই নির্ধারিত হবে এ বছর রমজানে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে হবে নাকি তারা বাড়িতে ছুটি কাটাতে পারবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








