News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্থির প্রত্যয় যাত্রায় অবিচল থাকার শানিত শপথ ছায়ানটের

স্থির প্রত্যয় যাত্রায় অবিচল থাকার শানিত শপথ ছায়ানটের

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অটল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী ও সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর একদল ব্যক্তি ছায়ানট-সংস্কৃতি ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। তাদের হামলায় ছয়তলা ভবনের অধিকাংশ কক্ষ, প্রদর্শনী কক্ষ, মিলনায়তন, কম্পিউটার, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলাকারীরা অন্তত ৭টি ল্যাপটপ, চারটি ফোন ও কিছু হার্ড ডিস্ক লুট করেছে এবং সার্ভারসহ কিছু বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জামও ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে।

ছায়ানট বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এটি স্বেচ্ছাসেবী ও স্বনির্ভর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, যা কোনো সরকারি, বিদেশি সংস্থা বা কর্পোরেট অনুদান গ্রহণ করে না। তাই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন নিজেরা সামলাবে। সংগঠনটি সঙ্গীত এবং শিশুদের সাধারণ শিক্ষায় সাময়িক বিঘ্ন দ্রুত প্রতিকার করার অঙ্গীকার জানিয়েছে।

ছায়ানট এই হামলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যহীন দাবি করেছে। সংগঠনটি মূলত সঙ্গীত ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করে চলেছে। এটি উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ অনানুষ্ঠানিক সঙ্গীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার শিক্ষার্থীরা দেশে এবং বিদেশে সমাদৃত। স্বাধীনতা সংগ্রামে ছায়ানটের অবদানও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

আরও পড়ুন: ছায়ানটে হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত

ছায়ানট বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, এই হামলা দেশ ও বিদেশে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারে। সেই কারণে, দেশের ও বিদেশের অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীর উদ্বেগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

ছায়ানটে হামলার প্রতিবাদে নালন্দা ও ছায়ানট বিদ্যায়তনের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিকর্মীরা শুক্রবার বিকেল ৪টায় ছায়ানট ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতসহ কয়েকটি গান পরিবেশন করে। 

সংস্কৃতিকর্মী আরিফ নূর বলেন, রাতের ন্যাক্কারজনক হামলার বিরুদ্ধে আমাদের এই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ৫০–৬০ জনের একটি দল ধানমন্ডির সাততলা ভবনের বিভিন্ন তলায় প্রবেশ করে প্রতিটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পার্কিং লটে আগুন ধরানো, ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ এবং স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও শিল্পকর্ম পুড়িয়ে ফেলা হয়।

হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষে লুটপাটও চালিয়েছে। মিলনায়তন, অফিস কক্ষ, শৌচাগার, আলমারি ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে ছায়ানট ভবন পরিদর্শনে আসেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

পরে তিনি বিবৃতিতে জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে যা করণীয় তা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছায়ানট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে করবে।

ছায়ানটের বক্তব্যে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে, তারা আত্মশক্তিতে শক্তিশালী হয়ে শিক্ষার কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, যাতে সাময়িক বিঘ্ন দ্রুত অতিক্রম করা যায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়