মহাশূন্যে পিঁপড়ার সারি...
প্রায় ৮০টি পিঁপড়ার একটি দল এবার মহাশূন্যে পারি জমিয়েছে। তাই বলে, শূন্যে সারি বদ্ধভাবে মহাশূন্যের অভিমূখে পিলপিল করে উঠে যাওয়া একটি পিঁপড়ার লাইন কল্পনা করে আৎকে ওঠার কোন কারণ নেই। নভোচারীদের মজাদার খাবারে ভাগ বসাতেও তারা মহাকাশচারী হয় নি। বানর, কুকুরের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে মহাশূন্যে কিছু পিঁপড়া পাঠিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
রসদ পরিবাহী একটি রকেটে করে গত বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) এই প্রানীগুলোকে মহাশূন্যে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইকোলজি অ্যান্ড ইভল্যুশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
মহাশূন্যে প্রথম পা ফেলে ইতিহাসসৃষ্টিকারী এই পিঁপড়াগুলোর প্রজাতি পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে অন্তত একটি হলেও রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে তারা যেমন ভিন্ন ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে চলাফেরা করে। মহাশূন্যের অচেনা পরিবেশে ইউরোপীয় পিঁপড়াগুলো নতুন জায়গাটির সোজা কোনাগুলোর দিকে ছুটে যায়। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা থেকে নিয়ে যাওয়া একটি প্রজাতির পিঁপড়ারা নতুন জায়গাটির মাঝ বরাবর ধীরে ধীরে চলে এবং প্রতিটি ইঞ্চি স্পর্শ করে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ডেবোরাহ গর্ডন বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে বলেন, সব পিঁপড়াই সংঘবদ্ধ অনুসন্ধানী তৎপরতা দেখায়। ব্যাপারটা এখনো রহস্যময়। হয়তো এ ব্যাপারে তাদের কোনো সমন্বিত কৌশল রয়েছে, যা এখনো অনাবিষ্কৃত।
তিনি আরো বলেন, আইএসএসের অত্যন্ত হালকা মাধ্যাকর্ষণে প্রাণীটির তৎপরতা সম্পর্কে কিছুটা নতুন ধারণা মিলেছে। সেখানে পিঁপড়ারা কী রকম আচরণ করবে, সে সম্পর্কে গবেষকদের কোনো ধারণাই ছিল না।
আইএসএসে মহাশূন্যের অচেনা পরিবেশে প্রায় ৮০টি পিঁপড়ার জন্য গবেষকেরা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের তৈরি আটটি পথ তৈরি করে দেন। প্রতিটির ভেতরে তাদের জন্য ‘বাসা’ বা থাকার জায়গাও রাখা ছিল। পরীক্ষার শুরুতে সব বাধা সরিয়ে পিঁপড়াগুলোকে নতুন এলাকা অনুসন্ধানের সুযোগ করে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতাটিও তুলে নেওয়া হয় এবং প্রাণীটির জন্য আরও বড় পরিসর দেওয়া হয়। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিটে প্রতিটি পিঁপড়া ওই ক্ষেত্রের প্রায় প্রতিটি কোনা অন্তত দুবার ঘুরে আসে।
একই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীতে বসবাসরত একদল পিঁপড়ার ওপরও পরীক্ষা চালানো হয়। তুলনামূলক ওই দুটি পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গবেষকেরা বলেন, মহাশূন্যের প্রতিকূল পরিবেশে অচেনা বাধা সত্ত্বেও পিঁপড়াগুলো সর্বোচ্চ লড়াই করে বেশ ভালো সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে পৃথিবীতে তাদের সামর্থ্য নিঃসন্দেহে অনেক গুণ বেশি।
গবেষকেরা এখন একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্প শুরু করবেন বলে জানান। এ প্রকল্পের
আওতায় স্কুলগামী শিশুরাও ক্লাসরুমে বিচরণকারী পিঁপড়াদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজে সহায়তা করতে পারবে। আর মহাশূন্যে পিঁপড়াদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছেন সেখানকার নভোচারীরা। বিজ্ঞানীরা বলে এসবের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবেশে প্রাণীটির সহযোগিতামূলক আচরণের কৌশল নির্ণয় এবং অনুসরণ করে একই ধরনের সামর্থ্যের রোবট তৈরির চেষ্টা করছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








