News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:১০, ১৩ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১১:৪৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জনগণের অতিআগ্রহের ‘পাপে’ জবাই হলো ছাগলটি

জনগণের অতিআগ্রহের ‘পাপে’ জবাই হলো ছাগলটি

কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের উন্মাদনা আর অতিআগ্রহের ফলে অদ্ভূত ছাগলটিকে শেষতক মরতেই হলো। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে গাজা এলাকার ওই পশুটিকে জবাইর মাধ্যমে হত্যা করা হয়। পশুটি পুরুষ প্রজাতির হলেও ছাগীর মতো দুধ দিতো।

এই অদ্ভূত ঘটনাকে অলৌকিক এবং পুরুষ ছাগল থেকে পাওয়া ওই দুগ্ধকে রোগ নিরাময়ী ক্ষমতাসম্পন্ন বলে বিশ্বাস করা শুরু করে গাজার লোকজন। সোমবার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ছাগলটির ক্ষতিপূরণ বাবদ তার মালিক জাস্সির আবু আল সাঈদকে সরকার থেকে ৬৮০ ডলার (স্থানীয় মুদ্রায় আড়াই হাজার দিরহাম) দেয়া হয়েছে।

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পুরুষ হয়েও পশুটি দুধ দিতো এবং তাতে অনেক রোগ সেরে যায় জানতে পেরে জবাই করা ছাগলটির মাংস স্থানীয় এক ধনী ব্যক্তি কিনে নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের ভেটেরিনারি সার্ভিসেসের পরিচালক জাকারিয়া আল কাফারনা বলেন, "আমরা ছাগলটিকে জবাই করার সিদ্ধান্ত নেই কারণ এটা জনমনে উন্মাদনা আর ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয় জনগণ ভ্রান্তিবশত বিশ্বাস করছিল যে এটা একটি অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন পশু যার দুধ বহু রোগ সারানোর ক্ষমতা রাখে।"

তিনি আরো জানান, হরমোনজনিত ত্রুটির কারণে ছাগলটি দুধ দিচ্ছিল... এর দুধ কোনো রোগ সারায় না... উল্টো এটা শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কাফারনা বলেন, "জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রণালয় ছাগলটিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা স্থানীয় সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটগুলোতে গরম খবর আর ঠাট্টা-বিদ্রুপের উপলক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল।"

আবু আল সাঈদ জানান, “তিনি স্থানীয় এক কৃষকের কাছ থেকে ছাগলটি কিনেছিলেন। আর ওই কৃষক তা ইসরায়েলি একটি ফার্ম থেকে আমদানি করেছিলেন।”

সাঈদ বলেন, "গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ছাগলটির দুধে বন্ধ্যাত্ব্যের মতো অনেক কঠিন রোগ সারে... তবে এসব অবশ্যই সত্য ছিল না... আর আমি এর দ্বারা কোনো লাভ করতে চাইনি। কিন্তু ছাগলটির অলৌকিক ক্ষমতা আছে- এই বিভ্রান্তিতে অনেকেই এর দুধ সংগ্রহ করতে আসতো।"

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে
 
         
 

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়