জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ০৮:১৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষককে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষককে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক (কেইউপি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদের শেষ ক্লাস। কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই পুনরায় দায়িত্ব পালনের দাবিতে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়টির বিদায়ী প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদের শেষ কর্মদিবসে এ আবেগঘন ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। ‌

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদের শেষ কর্মদিবসের খবর পেয়ে সকালে শিক্ষার্থীরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ক্লাস বর্জন করে প্লাকার্ড হাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয় এবং জনপ্রিয় এই শিক্ষকের পুনঃনিয়োগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় বেশ কয়েকজন অভিভাবকও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদ নিজে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্লাসে ফেরানো চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের আশ্বস্ত পেয়ে ফের ক্লাসে যান তারা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, খুরশীদুজ্জামান আহমেদ দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে আধুনিক শিক্ষাদান ও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে দেশ ও বিদেশে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর আমলেই ২০১৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিয়াড-এ বিদ্যালয়টির দুই ছাত্রী অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ ও জেলার সুনাম উজ্জ্বল করে। একই বছর বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী 'সেরা গল্পবাগিশ' হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করে। এছাড়াও ২০১৮ সালে নেপালের পোখরায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাবল প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২-এ রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্যপ্রযুক্তি চর্চায় অগ্রগামী এই বিদ্যালয়টিতে আইসিটির প্রসার ও স্কুল অব ফিউচার প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্তি সহ জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেও এসেছে নানা অর্জন। ফলে সবকিছু মিলিয়ে খুরশীদুজ্জামান আহমেদ শিক্ষার্থী-অবিভাবকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

অভিভাবকরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন একজন দক্ষ ও সফল অভিভাবক বিদায় নিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ধারাবাহিক সাফল্য ব্যাহত হতে পারে। 

এ বিষয়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে। তাই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও শিক্ষার পরিবেশ ধরে রাখতে খুরশীদুজ্জামান আহমেদকেই পুনঃনিয়োগ দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

এ বিষয়ে অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদ বলেন, 'অবসরে যাওয়া একটা নিয়ম যেটা সবাইকে মেনে নিতে হয়। আমিও সেটা মেনে নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু  শিক্ষার্থীরা বাস্তবতা বুঝতে না পেরে আবেগের কারণে আমাকে আবারও ফেরাতে চাচ্ছে।'

কালীগঞ্জ উপজেলা  মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) বদরুল হাসান বলেন, 'অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষকের এক্সটেনশনের বিষয় নির্ভর করে ম্যানেজিং কমিটির সীদ্ধান্তের উপর। তারা যা ভালো মনে করেন সেটাই করতে পারেন। আমরা শুধু দেখবো প্রক্রিয়াটা বিধিমতো হয়েছে কিনা।'

আরও পড়ুন: সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের ফেরার নির্দেশ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,'যে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন তাঁকে শিক্ষার্থীরা আবারও প্রধান শিক্ষক হিসাবে চাইলে আন্দোলন না করে ইউএনও বা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে পারে।'

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়