আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৮:১০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আলাদা হওয়ার ভয়ে একই যুবককে বিয়ে করলেন ৩ বোন

আলাদা হওয়ার ভয়ে একই যুবককে বিয়ে করলেন ৩ বোন

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলার তিন বোন। নিজেদের ক্যামেরাম্যান বিকাশকে একই সঙ্গে বিয়ে করেছেন সরোজ (২০), সাবিত্রী (১৯) ও সন্তোষ (১৮)। তাদের দাবি, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া তিন বোন বিয়ের পরও একসঙ্গে থাকতে চেয়েছেন। সেই ইচ্ছা থেকেই একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, গত ১৭ জুলাই চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তিন বোনই হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন।

গত ছয় মাস ধরে তাদের ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন বিকাশ। তিন বোনের তৈরি বিভিন্ন ভিডিওতে প্রায়ই স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতেন তিনি।

সম্প্রতি বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিকাশ তিন বোনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। তবে অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি হিন্দু সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করে বড় বোন সরোজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে থেকেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে জানান তিনি।

সরোজের ভাষ্য, শৈশব থেকে তারা একসঙ্গে থেকেছেন। আলাদা হয়ে থাকার কথা কখনো কল্পনা করতে পারেননি। বিয়ের পর আলাদা হয়ে যেতে হবে বুঝতে পেরে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তারা। পরে মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার বদলে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং একজনকেই বিয়ে করেন।

তিন বোনের দাবি, চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিকাশও জানান, তিন বোনের মধ্যে গভীর বন্ধনের বিষয়টি তিনি জানতেন। বিয়ের পর তারা আলাদা থাকতে চান না এ কথা তারা তাকে বারবার জানিয়েছেন। তাঁদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজেদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানান বিকাশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়তে থাকলে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিন বোন। সেখানে হিন্দু পুরাণের রাজা দশরথের তিন রানির প্রসঙ্গ টেনে তারা প্রশ্ন করেন, প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিনজন রানি ছিলেন, তখন কি সেটিকে অপমান বলা হয়েছিল? নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কোনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এদিকে, বিয়েটির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী অনুরাগ পান্ডে বলেন, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী একজন হিন্দু পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকা আইনত স্বীকৃত নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের বিয়ে আইনের দৃষ্টিতে বাতিল এবং এর মাধ্যমে বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না।

অন্যদিকে, মন্দিরের ব্যবস্থাপক ড. শিবচরণ দাসের বরাত দিয়ে দৈনিক ভাস্করের ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে সংস্কারকাজ চলছিল। এ কারণে সেখানে কোনো পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন না।

বিয়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ চারজনের সঙ্গে কথা বলেছে। হাসানপুরের সার্কেল অফিসার পঙ্কজ ত্যাগী জানান, পুলিশ চারজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নিয়েছে। তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জেদ্দা বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বন্ধ, আটকা ঢাকাগামী যাত্রীরা

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে অভিযোগ পাওয়া গেলে বা আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য সামনে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পঙ্কজ ত্যাগী।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের বিয়ের আয়োজনকে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়