আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত সিজেপির তিন নেতা ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত সিজেপির তিন নেতা ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন ধরপাকড় ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলন দমনে পুলিশি অভিযানে তিন হাজারের অধিক মানুষকে আটক করা হয়। ব্যাপক নাটকের জন্ম দিয়ে বিমান থেকে আটক হওয়া সিজেপির শীর্ষ নেতারা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি শেষ পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বিমানযোগে দিল্লি পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতারা। তবে বিমানটি অবতরণ করার পরপরই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান জাতীয় সংগ্রাহক অভিজিৎ দীপকে, সহ-সংগ্রাহক ও প্রধান মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং পলিসি কৌশলবিদ সৌরভ দাসকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটকের আগে অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করে একে অঘোষিত জরুরি অবস্থা ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রাখার পর রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এরপর আগামী এক বছর শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। সিজেপির আইনি প্রধান রত্না সিং এবং আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার আদালতে উপস্থিত থেকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। মুক্তির পর সিজেপির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে উল্লাস প্রকাশ করে লেখা হয় ককরোচরা কখনো মরে না এবং ভোটারের তথ্যে কারচুপির জবাবদিহি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে জনপ্রিয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে আটক করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ দল। ক্রাইম ব্রাঞ্চের কার্যালয়ে নিয়ে তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্যাপক জনরোষ ও সমালোচনার মুখে রবিবার ভোরের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাকে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যন্তর মন্তরের ধারেকাছেও যেতে পারবেন না, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতা আটক

সিজেপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে প্রশাসন। পুলিশ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট বা প্রতিরোধমূলক আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা, সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী এবং কনটেন্ট নির্মাতারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দিল্লির বিভিন্ন সীমানায় ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং মেট্রো স্টেশনগুলোর প্রবেশপথেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননা মামলার বিশেষ শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে। এর আগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কেবল বিক্ষোভের অজুহাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম মেট্রোরেল পুরোপুরি বন্ধ রাখা না হয়।

এই আন্দোলন ও ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দল সিজেপিকে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক হাতিয়ার আখ্যা দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। 

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, গণতন্ত্রে সবার মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও নৈরাজ্য সৃষ্টির অধিকার কারও নেই। সমস্ত বাধা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা সংশোধনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়