জেদ্দা বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বন্ধ, আটকা ঢাকাগামী যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের আকাশসীমায় সামরিক সংকট ও বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার তীব্র প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটের বিমান চলাচলে। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজিরবিহীন প্রাণঘাতী হামলার পর এবার নিরাপত্তাজনিত কারণে জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে জেদ্দা ও রিয়াদ উভয় বিমানবন্দরে ঢাকাগামী শয়ে শয়ে যাত্রী আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জেদ্দা বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্র অবনতির কারণে বিমান ছাড়ার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটটি ছাড়তে পারছি না। এ কারণে ঢাকাগামী প্রবাসীরা বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের বোর্ডিং কার্যক্রমও শুরু করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও ঝুঁকি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে রানওয়ে ও আকাশপথ ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৪০ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ছাড়তে পারছে না।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনাল এবং অভ্যন্তরীণ কমপ্লেক্সের ৪০১ নম্বর গেটে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (GACA) নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদান থেকে আসা একজন করে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৩০৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ফলে রিয়াদ বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ঢাকা-সৌদি রুটের মোট ৫টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (ঢাকা-রিয়াদ বিজি-৩৩৯ ও বিজি-৩৪০ স্থগিত), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স, রিয়াদ এয়ার।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রুটে নতুন কোনো সময়সূচি কার্যকর করা যাচ্ছে না।
এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফিরিয়ে আনা ও আহতদের সহায়তায় রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন কাজ করছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে বাংলাদেশ বিমানবন্দর সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলাকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক জবাবি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ অনুযায়ী, সৌদির আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অনেক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে কিংবা রুট পরিবর্তন করছে। সৌদিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘনীভূত হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসীর নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








